প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্সে সেরা ১০ দলকে পুরস্কৃত করল রবি

রবি’র প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্সে ঢাবি’র ‘থট পুলিশ’ চ্যাম্পিয়ন

  • চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘থট পুলিশ’
  • এআইভিত্তিক ‘স্বচ্ছ’ সমাধান দিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন
  • প্রতিযোগিতায় মোট পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার

রবি’র প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্সে ঢাবি’র ‘থট পুলিশ’ চ্যাম্পিয়ন
৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৭  

তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত উপাত্তের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান তৈরিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘থট পুলিশ’ দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দলটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ‘স্বচ্ছ’ সমাধান উপস্থাপন করে শীর্ষস্থান অর্জন করে।

৫ নভেম্বরর, বৃহস্পতিবার ঢাকায় রবির করপোরেট কার্যালয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধাপের মূল্যায়ন শেষে নির্বাচিত ২০টি ‘প্রাইভেসি ডিফেন্ডার’ দলের মধ্য থেকে ১০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে মোট পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে নতুন ও কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরিতে তরুণদের উৎসাহিত করাই ছিল এর লক্ষ্য। ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে রবির চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়।

চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ১০টি দল হলো—সিভ ভোডার্স, থট পুলিশ, এজেন্টওয়ান, সেড পিপল, সিইউ-ইটি-ই, এনক্রিপটেড ওয়েভস, এইজাকমি, টিম সাদ্দু, টিম ব্ল্যাক কফি, দ্য সাইফার গার্লস এবং প্রজেক্ট রেড স্কাই। প্রতিযোগীরা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, গ্রাহকের আস্থা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিজেদের ধারণা ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রতিযোগিতায় ‘থট পুলিশ’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রথম রানার-আপ হয়েছে ‘এজেন্টওয়ান’ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেড পিপল’।

চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেন ফাহিম জানান, গ্রাহকবান্ধব ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে তাঁরা এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমাধানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে রবি ডেটা প্রাইভেসি আইন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এআইভিত্তিক এই সমাধান তৈরিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহপাঠী মুহাইমিনুল ইসলাম নিনাদ ও অনিন্দ।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় রানার-আপ ‘সেড পিপল’ দলের দলনেতা সাকিবুল হাসান শোভন জানান, তারা ‘জিম্মা’ নামে একটি অ্যাপ্লিকেশনের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজেই তার ব্যক্তিগত উপাত্তের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এ কাজে তাঁর সহযোগী ছিলেন সহপাঠী নাদিয়া রহমান অথৈ ও রাবেয়া যশোরী স্বর্ণা।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, “আমরা চাই, তরুণেরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে না, বরং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধা দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন সমাধান তৈরি করবে। তরুণদের এই উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা আরও সহজ হবে। ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’ তরুণদের সেই সক্ষমতা বিকাশের একটি কার্যকর উদ্যোগ।”

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন বলেন, “‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’-এর মতো উদ্যোগ তরুণদের ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন ও কার্যকর সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করছে। আমরা আশা করি, সরকার, শিল্পখাত এবং তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে উঠবে।”

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, “বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু একটি নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল আস্থা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি ও ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও ক্রমাগত বাড়ছে। ‘প্রাইভেসি ফার্স্ট’ উদ্যোগ এবং ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্মকে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”

প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রবির সপ্তাহব্যাপী ‘প্রাইভেসি ফার্স্ট’ উদ্যোগের আওতায় কর্মী, ব্যবসায়িক অংশীদার, গ্রাহকসেবা ও কলসেন্টারের কর্মী, সরবরাহকারী এবং পরিবেশকদের জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে আলোচনা, কুইজ ও প্রশিক্ষণ। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

রবির মতে, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা শুধু আইন মেনে চলার বিষয় নয়; এটি সবার দায়িত্ব। তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং তথ্য ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমপি/এমভিএনও//