বিএসসিপিএলসিতে আর্থিক অনিয়ম ও ট্রাইব্যুনালে হাজিরার পরও গ্রেড-৩ পদে পদোন্নতির অভিযোগ

ইন্টারনেট শাটডাউনে অভিযুক্ত মির্জা কামালের পদোন্নতি

  • ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট শাটডাউনে অভিযুক্ত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দেওয়া কর্মকর্তা মির্জা কামাল আহম্মদ পদোন্নতি পেয়েছেন
  • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ৪র্থ গ্রেড থেকে জিএম (ইঞ্জিনিয়ার) ৩য় গ্রেডে উন্নীত হন তিনি; বর্তমানে রয়েছেন বিটিসিএলের ডিএমডি পদে
  • বিএসসিপিএলসির এমডি থাকাকালে ১৬০ কোটি টাকা বকেয়া বৃদ্ধি, এস আলমের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে ৫০ কোটি

ইন্টারনেট শাটডাউনে অভিযুক্ত মির্জা কামালের পদোন্নতি
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৪২  

২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় দুই দফায় ১২ দিন দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন ও ব্ল্যাকআউট তৈরির অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দেওয়া সাবেক সাবমেরিন কেবল কোম্পানির এমডি মির্জা কামাল আহম্মদকে পদোন্নতি দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে টেলিকম ক্যাডারের ২০ জন কর্মকর্তার সঙ্গে তালিকার ৫ নম্বরে থাকা এই কর্মকর্তাকে পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) ৪র্থ গ্রেড থেকে জিএম (ইঞ্জিনিয়ার) ৩য় গ্রেডে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে তিনি বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) হিসেবে কর্মরত।

এর আগে আন্দোলনের সময় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে মাত্র ১৫ মিনিটে দেশের দুটি সাবমেরিন কেবল লাইন বন্ধ করার কথা ট্রাইব্যুনালে স্বীকার করেন মির্জা কামাল। তবে অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের লিখিত আদেশ ছাড়াই আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাজ্জাদুল হাসানের ঘনিষ্ঠ প্রভাব খাটিয়ে অতিউৎসাহী হয়ে তিনি এই শাটডাউন ঘটান। পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে এমডি পদ থেকে সরিয়ে দিলেও কোনো বিভাগীয় বা আইনি শাস্তি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)-তে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৬ সালে প্রেষণে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়ে নিয়ম ভেঙে দ্রুত জিএম (প্রশাসন ও অর্থ) পদ দখল করেন, যেখানে ২০০৯ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত নিজস্ব কর্মকর্তারা ১৭ বছরেও পদোন্নতি পাননি। তাঁর সময়ে বকেয়া আদায় কমিটির ৮০টির বেশি সভা করে ২০ লাখ টাকার বেশি সম্মানী নেওয়া হলেও কোম্পানির বকেয়া বাড়ে ১৬০ কোটি টাকা। ইনভেস্টমেন্ট পলিসি লঙ্ঘন করে এস আলমের ঝুঁকিপূর্ণ তিন ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকার এফডিআর রাখা হয়। তাঁর দায়িত্বকালে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানির আয় ৫১৫ কোটি থেকে কমে ৩৯৮ কোটিতে এবং নিট মুনাফা ২৭৯ কোটি থেকে ৯৭ কোটি টাকা কমে ১৮২ কোটি টাকায় নেমে আসে।

অনিয়ম ও গণহত্যার মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সত্ত্বেও এই কর্মকর্তার গ্রেড-৩ পদোন্নতি নিয়ে খোদ টেলিকম ক্যাডারেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পদোন্নতি পাওয়ার পর তিনি আবারও তদবির চালিয়ে বিএসসিপিএলসির শীর্ষ এমডি পদে পুনর্বাসিত হতে তৎপরতা শুরু করেছেন।
//ডিবিটেক/এপিও/এসএমই/এফওইটি//