ই-মেইলে অব্যাহতি, নিয়ম মানা হয়নি বলে দাবি
চুয়েট রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ গ্রহণ, অব্যাহতি নিয়ে প্রশ্ন
- ২০২২ সাল থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর
- ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি
- অব্যাহতির প্রক্রিয়া ও ই-মেইলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক রেজিস্ট্রার
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও অব্যাহতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধু ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীরের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি ডিজিবাংলাটেকডট নিউজকে নিশ্চিত করেছেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নিজ দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি ওই অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, “গত ২৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার আমাকে জানান, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
তবে অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি আগের উপাচার্যের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ দিয়েছিলাম। অধ্যাপক শরীফুল আলমের কাছে জমা দিইনি। তাই পদত্যাগপত্রটি আগের উপাচার্য গ্রহণ করলেই ভালো হতো।”
অব্যাহতির প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, “গতানুগতিক উপায়ে অব্যাহতিও দেননি। পদত্যাগ জমা দিলে সেটা একটা নথি হয়ে আসে। সেই নথিতে উপাচার্য অনুমোদন দেন। তারপর অন্য একজনের মাধ্যমে অফিস আদেশ করেন। কিন্তু এরকম কিছু হয়নি। আমাকে শুধু একটি মেইল দিয়েছেন। তবে কোনো স্মারক নম্বর নেই। আর উনি আমাকে মেইলে বলেছেন, ‘আপনাকে’ অব্যাহতি দেওয়া হলো। এখানে আমার নামও নেই। এগুলো কোনোটাই নিয়মের মধ্য থেকে হয়নি। তবু, আমি আসলেই ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলাম।”
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ৩৬ দিন শাটডাউনের পর একাডেমিক কার্যক্রমের স্বার্থে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাসে ফিরলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
//ডিবিটেক/মো. রাকিব হাসান/এসএমপি/এমআইএসটি//





