বিকল্প পথে পৌঁছাল রাশিয়ার পঞ্চম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি

প্রথমবার পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম

  • প্রথমবার পদ্মা সেতু ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিকল্প রুট ব্যবহার করে রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি
  • শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তায় প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে গাড়িবহর
  • গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে রুট পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ

প্রথমবার পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম
৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৯  

রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে। প্রচলিত রুটের পরিবর্তে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে এসব পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়েছে।

 ৬ নভেম্বর,  শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার প্রচলিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে বিকল্প পথ ব্যবহার করা হয়েছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহরটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছায়। ইউরেনিয়াম পরিবহনে এর আগে এই রুট ব্যবহার করা হয়নি।

এত দিন ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ঢাকার বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় যেত।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।

এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান এ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।

স্টেজ-সি পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর এবং পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।

//ডিবিটেক/ রঞ্জিত কুমার শীল/ এসএমপি/এমআইএসটি//