১৯ আগস্ট বিটিআরসির সপ্তম গণশুনানি 

ফের দেশী কনভেতে বিটিআরসি'র গণশুনানি

  • টেলিকম সেবা নিয়ে বিটিআরসির সপ্তম গণশুনানি
  • কনভেতে অনলাইন শুনানিতে নিবন্ধন করেছেন ২,৯৯০ জন
  • অনলাইননির্ভর শুনানির গণভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা

ফের দেশী কনভেতে বিটিআরসি'র গণশুনানি
১৮ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:৩২  

টেলিযোগাযোগ সেবার মান, গ্রাহক অভিযোগ ও খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সপ্তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগষ্ট, বুধবার। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই শুনানির অনলাইন পর্ব দ্বিতীয়বারের মতো দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’তে অনুষ্ঠিত হবে। তবে পুরোপুরি অনলাইননির্ভর অংশগ্রহণ কতটা ‘গণ’ভিত্তিক হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

১৯ আগস্ট, বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হতে যাওয়া অনলাইন কার্যক্রম নিবন্ধিত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে অংশগ্রহণ অনলাইন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের কনভের পাশাপাশি জুম লিংকের মাধ্যমেও শুনানিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, গণশুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেলিযোগাযোগ সেবা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন, মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে। নিবন্ধন ও জমা দেওয়া বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করে নির্বাচিত ও যৌক্তিক প্রশ্নকারী এবং অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড ই-মেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে তাঁদের জানানো হয়েছে।

বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, এবারের গণশুনানিতে ২ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেছেন।

অনলাইন শুনানির গণপরিসর নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু ভার্চুয়াল মাধ্যমে গণশুনানি আয়োজন করলে এর গণভিত্তি ও অংশগ্রহণের পরিধি সীমিত হতে পারে। দেশে ইন্টারনেটে সংযুক্ত মানুষের একটি বড় অংশের কাছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারের সুবিধা সমানভাবে নেই। ফলে কেবল অনলাইন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে সাধারণ গ্রাহকের অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যেতে পারে।

এদিকে আগেই নিবন্ধন করা অংশগ্রহণকারীদের ফোন করে যথাসময়ে শুনানিতে যুক্ত হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। তবে ফোনে মিটিং আইডি ও পাসওয়ার্ড লিখে নিতে বলা নিয়ে কেউ কেউ কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।

ষষ্ঠ গ্রাহক শুনানিতে ফাইবার ব্যাংক ও অভিযোগ নিষ্পত্তি পোর্টাল গঠনের ইঙ্গিত বিটিআরসি'র

কনভেতে দ্বিতীয়বার
বিদেশি নয়, দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটির তৈরি এআইভিত্তিক ভার্চুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’তে দ্বিতীয়বারের মতো বিটিআরসির গণশুনানি হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় বিটিআরসির তৃতীয় গণশুনানি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর কনভেতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ গণশুনানিতেও গ্রাহকেরা টেলিযোগাযোগ সেবার নানা সমস্যা তুলে ধরেন।

এর আগের ছয়টি গণশুনানির মধ্যে প্রথমটি ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিম্নমানের ভয়েস কল ও বায়োমেট্রিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ২০১৯, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৪ সালে আরও চারটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর কনভেতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ গণশুনানিতে প্রায় দেড় হাজার অভিযোগ জমা পড়ে।

উঠেছিল যেসব অভিযোগ
কনভেতে অনুষ্ঠিত আগের গণশুনানিতে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সুবিধা নেওয়ার বিড়ম্বনা, আইএসপি রিসেলার পর্যায়ে পেশিশক্তির প্রভাব, ১১ মাস পর সিম বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহককে অবহিত না করা এবং অনুমতি ছাড়া ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসে (ভ্যাস) টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।

এ ছাড়া তিন মোবাইল অপারেটরের অডিট বকেয়া, গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে বাজারে অসম প্রতিযোগিতার অভিযোগ, টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং অ্যাপে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) কল চালুর বিষয়ও আলোচনায় আসে।

এক দশকেও রয়ে গেছে কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট ও ভাস অভিযোগ

গণশুনানিতে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী, ভোক্তা অধিকার সংস্থা, পেশাজীবী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন, বিটিআরসির লাইসেন্সধারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তাদের অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা এবং সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেন।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ছয়টি গণশুনানিতে ৩১ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের বড় অংশ কলড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি, নেটওয়ার্ক কভারেজ, মোবাইল ডেটা ও কলরেট, ভ্যাস এবং সিমের মালিকানা-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে।
//ডিবিটেক/এনএপি/এসএমপি//