বিটিআরসির ৭ম গণশুনানি ১৯ আগস্ট 

এক দশকেও রয়ে গেছে কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট ও ভাস অভিযোগ

এক দশকেও রয়ে গেছে কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট ও ভাস অভিযোগ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৮  

দেশের টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত জানার লক্ষ্যে আগামী ১৯ আগস্ট (বুধবার) আবারও গণশুনানির আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সকাল ১০টায় আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে "টেলিকম সেবা সম্পর্কিত প্রশ্ন ও মতামত" শীর্ষক এই গণশুনানি অনলাইন ও অফলাইন- উভয় মাধ্যমে (হাইব্রিড) অনুষ্ঠিত হবে।

বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনলাইন অংশগ্রহণ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও তা প্ল্যাটফর্মের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। অংশগ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিটিআরসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গুগল ফরম পূরণ করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ও উত্থাপিত বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের ই-মেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে লগইন তথ্য পাঠানো হবে।

২০১৬ থেকে ২০২৫: ছয় গণশুনানির অভিজ্ঞতা

২০১৬ সাল থেকে গ্রাহকদের সরাসরি মতামত ও অভিযোগ শোনার উদ্দেশ্যে বিটিআরসি মোট ছয়টি গণশুনানি আয়োজন করেছে। তবে দীর্ঘ এই সময়ে শুনানির সংখ্যা বাড়লেও গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগগুলোর ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

প্রথম গণশুনানি (২২ নভেম্বর ২০১৬):
ঢাকায় বিটিআরসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম গণশুনানিতে ১,০৫০টি অভিযোগ জমা পড়ে। প্রধান অভিযোগ ছিল কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা।

দ্বিতীয় গণশুনানি (১২ জুন ২০১৯):
আইইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে শতাধিক অভিযোগ আসে। অধিকাংশ অভিযোগ ছিল কল ড্রপ এবং নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা নিয়ে।

তৃতীয় গণশুনানি (২২ আগস্ট ২০২১):
কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে রেকর্ড ২৩ হাজার ১৬টি অভিযোগ নিবন্ধিত হয়। গ্রাহকেরা নেটওয়ার্ক কভারেজ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং মোবাইল ডেটার উচ্চমূল্য নিয়ে অভিযোগ করেন।

চতুর্থ গণশুনানি (৮ ডিসেম্বর ২০২২):
চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে আয়োজিত আঞ্চলিক গণশুনানিতে ৮৪৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এতে ফোরজি কভারেজ এবং মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

পঞ্চম গণশুনানি (৮ মে ২০২৪):
বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে ৩ হাজার ২৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। জরুরি রিচার্জ সুবিধা, গ্রাহকসেবার মান এবং অপারেটরদের সেবার বিষয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

ষষ্ঠ গণশুনানি (২৫ নভেম্বর ২০২৫):
দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি-এর এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’ (Convay)-এ অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল গণশুনানিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অভিযোগ আসে। গ্রাহকেরা অনুমতি ছাড়া ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস) চালু করে অর্থ কেটে নেওয়া, দুর্বল নেটওয়ার্ক, সিম রিপ্লেসমেন্ট ফি, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) জটিলতা এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সিম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে গ্রামীণফোনের বাজার প্রতিযোগিতা, টেলিটকের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা এবং মোবাইল অপারেটরদের অডিট বকেয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকদের সরাসরি মতামত গ্রহণে বিটিআরসির নিয়মিত গণশুনানি আয়োজন একটি ইতিবাচক ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ। তবে গত এক দশকের ছয়টি গণশুনানির অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস)-এর নামে অনাকাঙ্ক্ষিত চার্জ—এসব মৌলিক সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

তাদের মতে, আগামী ১৯ আগস্টের সপ্তম গণশুনানি যেন কেবল অভিযোগ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং গ্রাহকদের যৌক্তিক অভিযোগের দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করাই হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।
//ডিবিটেক/এমএএইচ/এসএমই//