বিটিআরসির ওএসডি ৬ কর্মকর্তাকে পুনঃপদায়নের সিদ্ধান্ত

বিটিআরসির ওএসডি ৬ কর্মকর্তাকে পুনঃপদায়নের সিদ্ধান্ত
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৫৪  

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের শ্বেতপত্রে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অভিযুক্ত হয়েও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) থেকে ৬ কর্মকর্তাকে পুণঃপদায়ন করা হচ্ছে। দুই দিন ধরে অনিষ্ঠি নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতিকে পেছনে ফেলে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩০৩তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে।

পুণঃপদায়নের সিদ্ধান্তে থাকা ব্যক্তিরা হলেন- সংস্থাটির মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডু, পরিচালক মো. ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া, পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ, পরিচালক এস এম তালেব হোসেন, উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং উপপরিচালক শারমিন সুলতানা।

এর আগে শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ থাকলেও কমিশনের আলোচ্যসূচিতে ওএসডি হওয়া ওই ৬ কর্মকর্তার পুনঃপদায়ন পুনর্বিবেচনার বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত হয়। 

বিটিআরসির একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০৩তম কমিশন সভার কার্যপত্রে তাদের পুনঃপদায়নের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিশন সভায় এবিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার বিটিআরসি দিবস পালনের পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও শ্বেতপত্র কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করেই পরের সপ্তাহেই ওএসডি থাকা এই ছয় কর্মকর্তাকে পুনরায় পদায়ন করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শ্বেতপত্র প্রতিবেদনের সুপারিশ কার্যকর না করে পুনঃপদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে নেতিবাচক বার্তা দেবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি বা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শ্বেতপত্র কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে পুনঃপদায়ন সিদ্ধান্ত কমিশনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

এর আগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ২৯৮তম কমিশন সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতি তদন্তে গঠিত শ্বেতপত্র  ওই ৬ কর্মকর্তাদের শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সভায় শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে এই ছয় কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে এবং প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এরপরও মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করে এবং সংশ্লিষ্ট সব আপত্তি উপেক্ষা করে ওএসডি থাকা এসব কর্মকর্তাকে পুনরায় পদায়নের সিদ্ধান্ত হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের শর্ত ভঙ্গ করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে রাজস্ব খাতে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫ কর্মকর্তা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগ পাওয়া সাত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ কর্মচারীর কাছে ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিটিআরসি। ২০০৯ সাল থেকে বিটিআরসিতে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠলে গঠিত পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জুলাই বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পিটিডির টেলিকম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটি চিঠিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো।  ওএসডি থাকা লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা; উপপরিচালক আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিটিআরসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসংক্রান্ত জটিললতা ও উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র গমন; শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে বয়স প্রমার্জন করে রাজস্ব খাতে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ ও অনুমোদন ব্যতীত বিদেশে অবস্থানের অভিযোগের প্রমাণ তদন্ত কমিটি  পেয়েছিলো। এছাড়া এয়াকুব আলী ভূঁইয়ার উপপরিচালক থেকে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে চার বছরের বদলে মাত্র ৬ মাস ১ দিন দায়িত্ব পালন;  আফতাব মো. ওয়াদুদ ১ বছর ২২ দিন উপপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন এবং এম এ তালেব ৩ বছর ২৬ দিন উপপরিচালকের পদে থেকেই পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।  পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি পরিচালক এয়াকুব আলী ভূঁইয়ার অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে পরিচালক হিসেবে পদায়নে অনিয়ম পেয়েছিল। ফলে সেই নির্দেশনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া কর্মকর্তাদের ওএসডি করতে এবং স্বাক্ষরের ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবত থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া, গত ১০ আগস্ট পিটিডির পক্ষ থেকে আরেক চিঠিতে মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিলো বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে। 
ডিবিটেক/আইএমইউ/সিএমএস