অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের প্রয়োজন আছে?

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের প্রয়োজন আছে?
১৭ আগষ্ট, ২০২৬ ১৯:৫০  

ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বা পিসির স্বর্ণযুগে নর্টন বা ম্যাকাফির মতো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা ছিল প্রায় বাধ্যতামূলক। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। কারণ, বর্তমানের অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেটগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। ফলে বেশির ভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য বাড়তি কোনো থার্ড পার্টি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বললেই চলে।

অ্যান্ড্রয়েড চালিত ডিভাইসের সুরক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করে ‘গুগল প্লে প্রটেক্ট’। এটি গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ নামানোর সময় তো বটেই, ইনস্টল করার পরও নিয়মিত পুরো হ্যান্ডসেট স্ক্যান করে কোনো ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার আছে কি না তা পরীক্ষা করে। এ ছাড়া অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব ‘স্যান্ডবক্সিং’ প্রযুক্তির কারণে একটি অ্যাপ অন্য অ্যাপের উপাত্ত বা তথ্যে প্রবেশ করতে পারে না। 

নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ ও ব্যবহারকারীর সচেতন অনুমতির ব্যবস্থার কারণে আধুনিক ফোনগুলো সাইবার আক্রমণ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া কল বা ক্ষতিকর বার্তা ঠেকানোর প্রযুক্তিও উন্নত করা হচ্ছে।

নতুন দিনের সাইবার ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা
অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো, বর্তমান যুগের প্রধান সাইবার হুমকিগুলোর ধরন বদলে গেছে। ট্রেডিশনাল ভাইরাসের চেয়েও এখন বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা মনস্তাত্ত্বিক সাইবার প্রতারণা। 

বিভিন্ন লোভনীয় ভুয়া বার্তা, পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ, ভুয়া হেল্পডেস্ক বা ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন কিংবা ক্ষতিকর সাইটের পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ব্যবহারকারী নিজে যদি অসাবধানতাবশত কোনো প্রতারণামূলক লিংকে তথ্য প্রকাশ করেন, তবে কোনো অ্যান্টিভাইরাসই তাঁকে রক্ষা করতে পারবে না।

কখন অ্যান্টিভাইরাস প্রয়োজন হতে পারে?
কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাড়তি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের ব্যবহার কার্যকর হতে পারে। যারা গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অচেনা উৎসের এপিকে ফাইল সাইডলোড করে অ্যাপ নামিয়ে থাকেন, তাঁদের ফোনে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ঢোকার বড় ঝুঁকি থাকে। 

এছাড়া পুরনো মডেলের যেসব ফোন আর নিয়মিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত হালনাগাদ পায় না, কিংবা গুগল প্লে সার্ভিসবিহীন ডিভাইসে বাড়তি সুরক্ষার জন্য স্বনামধন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ইনস্টল রাখা যুক্তিসংগত হতে পারে।

পরিশেষে, সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যান্টিভাইরাস না থাকাটি মোটেও উদ্বেগের বিষয় নয়। কেবল কোনো সফটওয়্যারের ওপর ভরসা না করে অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সুরক্ষিত থাকার সেরা উপায়।

ডিবিটেক/বিএমটি