গ্রিনকন-২৫ হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টেলিশিফা’
বিপদে পড়া মানুষ সাহায্যের অনুরোধ করতে সক্ষম ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরি করে এবার উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘গ্রিনকন-২৫ ন্যাশনাল হ্যাকাথন’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘টেলিশিফা’। দুর্যোগের সময় দ্রুত এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি ভিত্তিক সল্যুশন বাতলে দিয়ে ৪০টি প্রতিযোগী দলের মধ্যে ‘সেরা’ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্পটি।
প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিনটেক অ্যাপ ফাউন্ডেশন’ এর আয়োজনে গত ৩ ও ৪ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেওড়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয় এই ‘গ্রিনকন ২৫-ন্যাশনাল হ্যাকাথন’। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলকে ৩০ হাজার টাকা পুরস্কারের পাশাপাশি ‘মেডিকেল সলিউশন’ ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় চ্যাম্পিয়ন দল টেলিশিফা-কে।
টেলিশিফা প্রকল্পের উদ্ভাবকরা হলেন- টেলিশিফার উদ্ভাবকরা হলেন- শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মজুমদার ইয়াছিন আহমেদ, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের তাহোরুজ্জোহা তুহিন এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের মো. রজন আলী।
প্রধান উদ্ভাবক মজুমদার ইয়াছিন আহমেদ জানান, ইন্টারনেট সংযোগ বা স্মার্টফোন ছাড়াই এই কাজ করে টেলিশিফা। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সাধারণ ডায়াল কোড বা এসএমএস ব্যবহার করেই মানুষ তাদের বিপদের কথা জানাতে পারবে। ইউএসএসডি ভিত্তিক ফিচার ফোনেও সেবা দিতে সক্ষম এই অফনেটে সল্যুশনটি প্রাথমিক পর্যায়ে বন্যার্তদের সাহায্যে ব্যবহার করে দেখতে চান এই উদ্ভাবকেরা।
‘সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের জরুরি সহায়তার সুযোগ তৈরি করে নতুন ফিচার যোগ করা হবে’ বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবক দলনেতা।
জানাগেছে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যারা সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে বলে দেখা যাবে, তাদের চাহিদার ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা অন্য সাহায্যকারী সংস্থাগুলো দ্রুত সেখানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারবে। দেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার নতুন পথ বাতলে দেবে সেবাটি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কুমিল্লা এলাকায় বন্যার সময় উদ্ভাবক দলনেতা ইয়াছিনের দাদাবাড়ি সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা সেখানে পৌঁছাতে প্রায় দুদিন সময় লেগেছিলো। সেই দুরোভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে মুক্তি দিতেই এই সল্যুশনটি বানিয়েছে তিন শাস্টিয়ান।







