আস্তানায় বিশ্বমঞ্চে ১০৭টি দেশের প্রতিযোগীদের হার মানিয়ে দেশের জন্য মেডেল ছিনিয়ে আনল চার তরুণ মেধাবী

কাজাখস্তানে আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে তিনটি ব্রোঞ্জ পেলো বাংলাদেশ

  • পদক জয় করেছেন লাবিব শাহরিয়ার, মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম

কাজাখস্তানে আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে তিনটি ব্রোঞ্জ পেলো  বাংলাদেশ
৭ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:১০  

৭ আগস্ট, শুক্রবার: কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় অনুষ্ঠিত ৩য় আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াডে (আইওএআই ২০২৬) ৩টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে ঐতিহাসিক সফলতা ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ দল। আজ ৭ আগস্টম শুক্রবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে পর্দানামল বিশ্বমঞ্চের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী ৩ জন হলেন—কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং ঢাকার নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। বাংলাদেশ দলের চতুর্থ সদস্য হিসেবে অংশ নেন মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ। পুরো দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি) অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন এবং কোচের দায়িত্ব পালন করেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সিআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম খান।

ধারাবাহিক সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, “বুলগেরিয়ায় প্রথম আসরে আমরা কোনো মেডেল পাইনি, চীনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে পেয়েছিলাম ২ টি ব্রোঞ্জ। আর এবার কাজাখস্তানে আমরা পেলাম ৩ টি ব্রোঞ্জ। প্রতিনিয়ত আমাদের টিম উন্নতি করছে। তবে আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও সুবিধাদি বাড়াতে হবে।”

পদকজয়ী শিক্ষার্থী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “এই মেডেল জেতা মানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা। আশা করি আগামী দিনেও বাংলাদেশ এআই দল বিজয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখবে।”

গত ২ আগস্ট পর্দা ওঠা এবারের বৈশ্বিক আসরে বিশ্বের ১০৭টি দেশের ৪৩৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। গত ৪ ও ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত দুটি একক মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের টানা ৬ ঘণ্টা করে অত্যন্ত জটিল গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে হয়।

গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে মূল আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। দেশব্যাপী মে মাসে আঞ্চলিক ও বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্ব শেষে সেরা চারজনকে মূল জাতীয় দলের জন্য নির্বাচিত করে ২ মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতাটিতে প্ল্যাটিনাম স্পন্সর ও হোস্ট পার্টনার ছিল বিইউবিটি এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে রিভ চ্যাট।
//ডিবিটেক/ এমএম/ এমএসআই//