পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড: কী আছে গুগল নতুন এই ফোল্ডেবল ফোনে?

পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড: কী আছে গুগল নতুন এই ফোল্ডেবল ফোনে?
১৫ আগষ্ট, ২০২৬ ১৩:৫১  

ভাঁজ করা স্মার্টফোন বা ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে প্রথম আসার পর থেকেই গুগল তাদের দারুণ সব নতুন ডিজাইনের মাধ্যমে প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছিল। প্রথম দুই প্রজন্মে তারা পর্দার আকার ও কব্জায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে এবং ক্যামেরাতেও অভাবনীয় উন্নতি তুলে ধরে। তবে সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম এনগ্যাজেটে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন উন্মোচিত গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড ফোনটিতে সেই আশানুরূপ চমক নেই। 

বাজারের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং যেখানে তাদের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সিরিজের মাধ্যমে ক্রমাগত উন্নতি করছে, সেখানে পিক্সেল ফোনের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন অনেকটা থমকে গেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

ডিজাইন ও স্থায়িত্বে সীমাবদ্ধ উন্নতি
নতুন এই ফোনের বাইরের পর্দা ৬.৫ ইঞ্চি এবং ভেতরের নমনীয় পর্দাটি ৮ ইঞ্চির। পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় পর্দার আকার একই থাকলেও এবারে আলোর উজ্জ্বলতা ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর স্থায়িত্ব বাড়াতে পেছনের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ গ্লাস ফাইবার উপাদান, যা ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। 

ফোনটির ওজন আগের সংস্করণের চেয়ে ১০ শতাংশ কমিয়ে ২৩৯ গ্রাম করা হলেও এটি স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর তুলনায় বেশ ভারী। এছাড়া ১০.১ মিলিমিটার পুরুত্বের কারণে এটি হাতে নেওয়ার অভিজ্ঞতায় বেশ স্থূল মনে হয়। ধুলো ও পানি প্রতিরোধে এতে উচ্চমানের সুরক্ষা থাকলেও গঠনগত দিক থেকে ফোনটিকে আরও হালকা ও পাতলা করতে ব্যর্থ হয়েছে গুগল।

প্রসেসর ও ক্যামেরার পরিবর্তন
ফোনটির ভেতরে চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে গুগলের নতুন টেনসর জি৬ প্রসেসর, যা ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, অ্যাপ চালানো এবং সার্বিক ব্যবহারের গতি আগের চেয়ে অনেকটাই বাড়িয়েছে। এতে থাকা নতুন সিকিউরিটি চিপ জটিল সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে। 

তবে হতাশাজনকভাবে এবার ব্যাটারির সক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে ৪,৮০৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার করা হয়েছে। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে তারযুক্ত ব্যবস্থা আগের মতোই থাকলেও নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের গতি বাড়িয়ে ২৫ ওয়াটে নেওয়া হয়েছে। 

ক্যামেরার দিকে গুগলের মূল সেন্সরটি ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হয়েছে, যা ছবির মান ভালো রাখবে। তবে এই সিরিজের অন্য প্রো মডেলগুলোর মতো এতে ১২০ গুণ জুম করার সুবিধা রাখা হয়নি, যা ক্যামেরাভক্তদের কিছুটা হতাশ করতে পারে।

সফটওয়্যার ও প্রতিযোগিতা
সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে পিক্সেল ১১ সিরিজের অন্যান্য ফোনের মতো এতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। বড় পর্দায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করার জন্য এতে বাবলস নামে ভাসমান উইন্ডো ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার সাহায্যে সহজেই এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়া যায়। 

তবে অন্যান্য প্রতিযোগী ব্র্যান্ডের মতো পর্দার নিচে সার্বক্ষণিক টাস্কবার ধরে রাখার সুবিধাটুকু এতে যুক্ত করা হয়নি। আগের সংস্করণের চেয়ে দাম ১০০ ডলার বাড়ানো হলেও ভাঁজফোনের জন্য বিশেষ কোনো যুগান্তকারী ফিচার না থাকায়, স্যামসাং বা মোটোরোলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে লড়াইয়ে পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড কতটা টিকতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

ডিবিটেক/বিএমটি