স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তি, জনবল ও অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ: বিদেশমুখী চিকিৎসা কমানোর প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

৫ হাজার চিকিৎসক, ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ, হাসপাতালের সৌরবিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তি, জনবল ও অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ: বিদেশমুখী চিকিৎসা কমানোর প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর
১১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৪  

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও জনবান্ধব করে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমাতে বর্তমান মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের মানুষের জন্য একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান

চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

"আপনারা প্রতিদিন মানুষের আনন্দ-বেদনার অংশীদার হন। চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত প্রত্যেকেই মানুষের কাছে সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত।"

তিনি বলেন,

"চিকিৎসকই প্রকৃত অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ ও সঠিক পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর হয়ে ওঠে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"

প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে সরকার সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে।

এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হেলথ কেয়ারার পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যপরামর্শ, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর বিকাশ, পুষ্টি, টিকাদান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন।

তিনি বলেন,

"Prevention is better than cure। আগাম স্বাস্থ্যপরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে বহু রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।"

৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

স্বাস্থ্যসেবার জনবল সংকট নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য

স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

স্বাস্থ্যখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষাখাতের পর এবারই দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.০২ শতাংশ।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে কর ছাড়

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকার ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমিয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে এসব পণ্যের ওপর কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১০১ শয্যার

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় বিদ্যমান ৩১ ও ৫১ শয্যার হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব সরকারি হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পাওয়ার) ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে

শিশুস্বাস্থ্য সেবা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে রাজধানীর বাইরে উন্নত শিশুচিকিৎসা সহজলভ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের সঙ্গে বিজ্ঞানসম্মত মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মেডিক্যাল বর্জ্য নিরাপদভাবে অপসারণে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ কামনা করেন।

//ডিবিটেক/ডিএম/ইকে//