১৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার বাজেটের ৬৭.৫৯% ব্যয় হবে বেতন-ভাতায়, স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ মাত্র ১২ লাখ
হাবিপ্রবির বাজেটে গবেষণা খাত শূন্য, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় বাজেট বাড়লেও এবার গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে কোনো বরাদ্দ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ১৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে। এটি গত বছরের তুলনায় ৪ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেশি হলেও, এবারের বাজেটে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। অথচ এর আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গবেষণা খাতে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। বাজেট থেকে গবেষণা খাতকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) উচিত ছিল বাজেটে স্বতন্ত্রভাবে গবেষণায় বরাদ্দ রাখা। কিন্তু তা না করে গবেষণা খাতকে উপেক্ষা করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেছনে সিংহভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ গবেষণার গতিকে থমকে দেবে।
জানা গেছে, ঘোষিত ১৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে ইউজিসি দেবে ১২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব রাজস্ব আয় থেকে আসবে ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
খাতভিত্তিক বরাদ্দের বিবরণ:
-
বেতন ও ভাতা (সর্বোচ্চ বরাদ্দ): বাজেটের সর্বোচ্চ ৯০ কোটি ১৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা (৬৭.৫৯%) রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবসর ও পেনশন বাবদ। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন ৩৮ কোটি ৭৩ লাখ ১৮ হাজার, কর্মচারীদের বেতন ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার, বিশেষ সুবিধা ৪ কোটি ৮২ লাখ, ভাতাদি ৩১ কোটি ৮২ লাখ ১৭ হাজার এবং পেনশন ও অবসর সুবিধা বাবদ ৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
-
যানবাহন খাত: বিগত অর্থবছরে যানবাহন বাবদ কোনো বরাদ্দ না পেলেও এবার এই খাতে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
-
স্বাস্থ্যসেবা (সর্বনিম্ন বরাদ্দ): বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ দপ্তরের সূত্রমতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সবচেয়ে কম মাত্র ১২ লাখ টাকা (মোট বাজেটের ০.০৯%) বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ হাজার ২০৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই বরাদ্দ হিসাব করলে দেখা যায় জনপ্রতি মাত্র ১০৭ টাকা, যা অত্যন্ত অপ্রতুল।
-
অন্যান্য খাত: এছাড়া পণ্য ও সেবা (সাধারণ) বাবদ ২৯ কোটি ৭৩ লাখ, পণ্য ও সেবা (মেরামত) ৩ কোটি ৩৫ লাখ, যন্ত্রপাতি অনুদান ২ কোটি ৪২ লাখ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুদান ৮০ লাখ, অন্য মূলধন অনুদান ৭০ লাখ এবং অন্য অনুদান খাতে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ শূন্য থাকার বিষয়ে হাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, চলতি অর্থবছর থেকে ইউজিসি সরাসরি গবেষণায় অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটে এবার আলাদা করে বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে গবেষণা খাতের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তারা দ্রুতই ইউজিসির কাছে আলাদা আবেদন জানাবেন।
//ডিবিটেক/এনপিবি/ইকে//





