ছবি বা ভিডিও তৈরির বাইরেও মানুষের দৈনন্দিন সময় বাঁচাতে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ডিজিটাল জীবনের তথ্য জটলা দূর করতে স্মার্টফোনে যুক্ত হচ্ছে এআই
স্মার্টফোনে প্রতিদিন জমা হওয়া অসংখ্য ছবি, স্ক্রিনশট ও ফাইলের ভিড়ে প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ডিজিটাল বিশৃঙ্খলা দূর করতে ইনফিনিক্সের ফোলাক্স এআই, স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এআই, অপো ও রিয়েলমির মতো ব্র্যান্ডগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ফিচার যুক্ত করছে।
একসময় মানুষ ভুলে যেত ডায়েরি, নোটবুক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজ। এখন ভুলে যাওয়ার ধরন বদলেছে। তথ্য এখন আর হারায় না, বরং হারিয়ে যায় অসংখ্য নতুন তথ্যের ভিড়ে। প্রয়োজনের সময় একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা, ব্যাংক লেনদেনের রসিদ, অনলাইন মিটিংয়ের নোট কিংবা কয়েক সপ্তাহ আগে দেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেতে অনেকেই ফোনের গ্যালারি, ইমেইল বা মেসেজে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেন। ডিজিটাল জীবনে এটি এক নতুন বাস্তবতা।
প্রতিদিন স্মার্টফোনে জমা হচ্ছে অসংখ্য ছবি, স্ক্রিনশট, নোট, ফাইল ও বার্তা। তথ্য সংরক্ষণ করা যত সহজ হয়েছে, প্রয়োজনের মুহূর্তে তা খুঁজে বের করা ততটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আরও শক্তিশালী হওয়া নয়, বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় তথ্যকে অর্থপূর্ণভাবে মনে রাখা ও ব্যবস্থাপনা করা। এই জায়গাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে করপোরেট কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা কিংবা ফ্রিল্যান্সার—সবার ফোনেই প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব সংরক্ষণের সহজ উপায় হয়ে ওঠে একটি স্ক্রিনশট। কিন্তু কয়েক দিন পর সেই স্ক্রিনশটের ভিড়েই প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে বিশ্বখ্যাত স্মার্টফোন নির্মাতারা এখন এআই-ভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা যুক্ত করছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে আসা ইনফিনিক্স হট ৭০ স্মার্টফোনে থাকা ‘ফোলাক্স এআই’ (Folax AI) ইকোসিস্টেম এই ধারার একটি অন্যতম অংশ। এতে ফ্ল্যাশমেমো, মাইন্ডহাব ও স্টাডি অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো কয়েকটি টুল যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাশমেমো ব্যবহারকারীকে একটি ট্যাপেই স্ক্রিনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ দেয়। কোনো পেমেন্টের রসিদ কিংবা ওয়েবপেজের প্রয়োজনীয় অংশ সংরক্ষণ করলে সেটি শুধু ছবি হিসেবে নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিরোনামসহ একটি নোটে রূপান্তরিত হয়। সংরক্ষিত এসব তথ্য পরে ‘মাইন্ডহাব’ সাজিয়ে একটি অনুসন্ধানযোগ্য সংগ্রহে পরিণত করে।
ইনফিনিক্সের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে থাকা অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোও এই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে নেই। স্যামসাং তাদের প্রিমিয়াম ও মিড-রেঞ্জ ফোনে যুক্ত করেছে ‘গ্যালাক্সি এআই’ (Galaxy AI), যার ‘নোট অ্যাসিস্ট’ ও ‘সার্কেল টু সার্চ’ ফিচার ব্যবহার করে গ্যালারি বা নোটের যেকোনো তথ্য চোখের পলকে খুঁজে বের করা যায়। অন্যদিকে, অপো (Oppo) তাদের স্মার্টফোনগুলোতে ‘এআই নোট সামারি’ এবং রিয়েলমি (Realme) নিয়ে এসেছে ‘এআই মেমো’ ও ‘স্মার্ট লুপ’ ফিচার, যা ব্যবহারকারীর স্ক্রিনশট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেক্সট আলাদা করে এবং প্রয়োজনীয় ফাইলগুলোকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজিয়ে রাখে। এমনকি অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ অন-স্ক্রিন সচেতনতার মাধ্যমে যেকোনো পুরোনো রসিদ বা মেসেজের ভেতরের তথ্য সহজে খুঁজে দিচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দিনের এআই প্রতিযোগিতা শুধু কে বেশি কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং কোন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর সময় বাঁচাতে পারে, তথ্যের বিশৃঙ্খলা কমাতে পারে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে সঠিক তথ্যটি সামনে এনে দিতে পারে—সেই সক্ষমতাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সাফল্য নির্ধারণ করে তার জটিলতা নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা বাস্তব উপকার এনে দিতে পারে তার ওপর। আর সেই বিবেচনায় ভবিষ্যতের সবচেয়ে স্মার্ট স্মার্টফোন হয়তো সেটিই হবে।
//ডিবিটেক/ইমরান হোসেন/এমএআর//





