পাঁচ দিনের সফরে অবকাঠামো, রোহিঙ্গা সহায়তা ও বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বে গুরুত্ব

জে-ড্রাম উদ্যোগ পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফরে জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর জে-ড্রাম উদ্যোগসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। সফর শেষে তিনি বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জে-ড্রাম উদ্যোগ পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৩  

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। সফরের শেষ দিনে তিনি জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সফর শেষে ড. তানাকা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাইকার অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকতে জাইকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সফরের শুরুতে তিনি ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নেন। সেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ, বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প এবং পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

ড. তানাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সফরের অংশ হিসেবে ১ জুলাই তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। পরে ৩ জুলাই মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগ জাপানের হালনাগাদ মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক দর্শনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪ জুলাই তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ই-ভাউচার কেন্দ্র, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জাইকার সহায়তায় পরিচালিত জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

একই দিনে তিনি জাইকার অনুদানে নির্মাণাধীন কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পও পরিদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

//ডিবিটেক/আরআই/এমআই//