মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টের বাইরেও

৪৮ বছরে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও টেলিকমে কোন পথে বিএনপি?

  • বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন দলের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অর্জন তুলে ধরেন।
  • ফেসবুক পোস্টে তিনি মূলত ১৯ দফা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, ভিশন-২০৩০, ৩১ দফা এবং বিটিআরসি গঠনের মতো সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা টেনেছেন
  • পোস্টের সংক্ষিপ্ত তালিকার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, আইসিটি ও টেলিকম অবকাঠামোতে দলটির সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক অবদান
  • ৪৮ বছরে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও টেলিকমে কোন পথে বিএনপি?
    ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২১  

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলায় জাতীয় অর্জন ও সাফল্যের তালিকা অত্যন্ত বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৪৮টি ঐতিহাসিক জাতীয় অর্জনের একটি সমন্বিত তালিকা প্রকাশ করেন।

    মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টে দলটির রাজনৈতিক দর্শন, বৈদেশিক নীতি, শাসনতান্ত্রিক সংস্কার এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। তার উল্লেখিত তালিকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’, মুক্তবাজার অর্থনীতি, বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক রহমানের ‘৩১ দফা’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া টেলিকম খাতে বেসরকারি অপারেটর উন্মুক্তকরণ এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসি গঠনের কথাও তিনি সংক্ষেপে উল্লেখ করেন।

    এদিকে মাহদী আমিন তাঁর পোস্টে সংক্ষেপে টেলিকম উন্মুক্তকরণ ও বিটিআরসির কথা উল্লেখ করলেও, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, আইসিটি ও প্রযুক্তি খাতে বিএনপির দীর্ঘ রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোগত অবদানসমূহ তার ফেসবুক পোস্টে অনুচ্চারিত বা বিস্তারিত বিবরণের বাইরে ছিল। নিম্নে সেই প্রযুক্তিগত মাইলফলকগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হলো:

    ১. টেলিকম ও আইসিটির মেগা অবকাঠামো: নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপি সরকারের সময়েই মোবাইল টেলিযোগাযোগকে উন্মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় মনোপলির অবসান ঘটানো হয়। পরবর্তীতে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়, যা তৃণমূল পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষাকে গণমুখী করে তোলে। এছাড়া ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক (SEA-ME-WE 4)-এর সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশে সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়।

    ২. বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর: উচ্চশিক্ষাকে প্রযুক্তি ও গবেষণামুখী করতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST)-সহ একাধিক বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি)-সমূহকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট ও ডুয়েট)-এ রূপান্তর করে প্রকৌশল গবেষণার পথ প্রশস্ত করা হয়। বর্তমানে ২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক ৫০০ কোটি টাকার জাতীয় স্টার্টআপ ফান্ড ও 'ICT Roadmap 2030'-এর রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    ৩. আধুনিক নগর ও পানি প্রকৌশল: যোগাযোগ প্রকৌশলের ক্ষেত্রে ঢাকার প্রথম আধুনিক উড়ালসেতু (মহাখালী ফ্লাইওভার) নির্মাণ, ভৈরব মেঘনা সেতু ও ধলেশ্বরী সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। এছাড়া দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ‘স্বনির্ভর খাল খনন কর্মসূচি’ ছিল মূলত লোকজ পানি প্রকৌশল ও সমন্বিত হাইড্রোলজিক্যাল ব্যবস্থাপনার এক দূরদর্শী মডেল, যা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছিল।

    মাহদী আমিন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের আত্মনির্ভরতার দর্শন এবং খালেদা জিয়ার কল্যাণমুখী রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত চার দশকে বিএনপির অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও টেলিকম খাতের এই সুদূরপ্রসারী রূপান্তর জাতীয় অগ্রগতিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
    //ডিবিটেক/এসএমআই/ এসটিএম/ এমআইএসটি//