ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে শুরু আন্তঃবিষয়ক প্রদর্শনী; ২৫ জুলাই পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত

বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য’ প্রদর্শনী

  • প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। 
  • জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর ও স্থানীয় স্থাপত্যচর্চা প্রদর্শনীর মূল বিষয়।

বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য’ প্রদর্শনী
১ জুলাই, ২০২৬ ০১:০০  

রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক আন্তঃবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

৩০ জুন, মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে—নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ততা কীভাবে বঙ্গীয় বদ্বীপে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর গড়ে তুলতে পারে। স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্পের ঐতিহ্য এবং পরিবেশ-সংবেদনশীল নকশাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্যকর্মের মাধ্যমে মানুষ, প্রকৃতি ও স্থানের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ডব্লিউওডব্লিউ) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী। প্রদর্শনীর কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনপরিসর, নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্য উন্নয়নে সরকার নীতিগতভাবে কাজ করছে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ পরিকল্পনা সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নগরকে বৃষ্টি, পানি ও জলবায়ুর বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক জেমস গোল্ডম্যান বলেন, শিল্প, স্থাপত্য ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বঙ্গীয় বদ্বীপে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল জনপরিসর গড়ে তোলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। জলবায়ু-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং তরুণদের অংশগ্রহণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নকশা, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প ও স্থাপত্যের মাধ্যমে সবার জন্য অভিন্ন জনপরিসর গড়ে তোলার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে এই আয়োজন।

বিশেষ বক্তব্যে স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ বলেন, এই স্থাপনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এর সম্মিলিত নির্মাণপ্রক্রিয়া। স্থানীয় উপকরণ, পোড়ামাটির টালি, কারুশিল্প এবং মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি স্থাপত্য, ভূদৃশ্য ও জনপরিসরের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরির একটি প্রয়াস।

আয়োজকরা জানান, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, জলবায়ু সচেতনতা এবং নারী নেতৃত্বাধীন সৃজনশীল উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

//ডিবিটেক/এমআর/ইকে//