সাবেক কর্মীদের আন্দোলন নিয়ে গ্রামীণফোনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য: হুমকি ও মানহানির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আদালতের সব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে জিপি

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জিপির হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ অনেক বছর আগেই আইন অনুযায়ী প্রাপ্য বুঝে নিয়ে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন এবং তাদের দাবিগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আদালতের সব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে জিপি
৩০ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৮  

গ্রামীণফোনের অবসানপ্রাপ্ত ও অধিকারবঞ্চিত কর্মচারীদের ধারাবাহিক আন্দোলন, জিপি হাউজ অবরোধ এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের পর এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড। সাবেক কর্মীদের তোলা নানা অভিযোগের জবাবে গ্রামীণফোনের অবস্থান ও বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

​শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, "গ্রামীণফোনের কিছু সাবেক কর্মী চাকরি সংক্রান্ত নানাবিধ দাবি-দাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময় জিপি হাউজের সামনে এবং আরো কয়েকটি জায়গায় সমবেত হয়েছেন। আমাদের জানা মতে, তাদের বেশিরভাগ বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যান এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া তারা যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো বর্তমানে মহামান্য আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।"

​বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি গ্রামীণফোনের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই খুব দ্রুত এসব বিষয়ের সুষম নিষ্পত্তি হবে বলে কোম্পানি বিশ্বাস করে। তবে আন্দোলনকারীদের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জিপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, "আমরা লক্ষ্য করছি যে, এই ব্যক্তিরা সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রামীণফোন, এর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং নির্দিষ্ট কিছু কর্মীদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন।"

​শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আরও দাবি করেন, "গ্রামীণফোন এবং এর কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও আমাদের নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে, গ্রামীণফোন তার কর্মী এবং কোম্পানির সম্পদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি প্রতিকার নিতে বাধ্য হয়েছে।"

​শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি গ্রামীণফোন সর্বদা শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কোম্পানিটি তার কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে জিপি হাউজের আশেপাশে মোতায়েন রয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশজুড়ে কোটি কোটি গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোন দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ বলে তিনি তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।

//ডিবিটেক/আরআই/ইকে//