টেলিকম নীতিমালা ২০২৫ নিয়ে ‘মোবাইল অপারেটরপ্রীতি’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

টেলিকম নীতিমালা ২০২৫ নিয়ে ‘মোবাইল অপারেটরপ্রীতি’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
৭ জুন, ২০২৬ ২০:১৪  

টেলিকম নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়নে মোবাইল অপারেটরদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে- এমন অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। উত্থাপিত এমন অভিযোগ খন্ডন করে সংশ্লিষ্ট এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন-, নীতিমালা প্রণয়ন একটি সরকারের মৌলিক দায়িত্ব এবং নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনে যেকোনো নীতিমালা পর্যালোচনা, সংশোধন কিংবা বাতিল করতে পারে।

তবে,‘ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের টেলিকম লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় ‘গেটওয়ে’ নামে যে একাধিক অতিরিক্ত লাইসেন্স স্তর যুক্ত করা হয়েছিল তা বিশ্বের অনেক দেশেই এখন প্রচলিত নয়’ উল্লেখ করে ‘এসব লাইসেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি সীমিত গোষ্ঠী ‘রেন্ট সিকিং’ বা টোল আদায়ের সুবিধা পেয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

নতুন নীতিমালা বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বর্তমান নীতিমালায় লাইসেন্স স্তর কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পূর্বের প্রায় ২৬ স্তরের লাইসেন্স ব্যবস্থা কমিয়ে ‘৩+১’ কাঠামোতে আনা হয়েছে, যেখানে তিনটি লিগেসি টেলিকম এবং একটি স্যাটেলাইট স্তর রাখা হয়েছে। নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ার ফাইবারাইজেশন বর্তমান ২০-২২ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আপলিংক ও ডাউনলিংকের ক্ষেত্রে কঠোর ‘কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) নির্ধারণ এবং অপারেটরদের মালিকানায় বাধ্যতামূলকভাবে ১৫ শতাংশ দেশীয় অংশীদারিত্বের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

‘এসব শর্ত বাস্তবায়নে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, ফলে নতুন নীতিমালা মোবাইল অপারেটরদের জন্য বাড়তি দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে’ বলে মনে করেন সরকারের সাবেক এই টেলিকম বিষয়ক বিশেষ সহকারী। তিনি জানান, ‘টেলিকম নীতিমালা প্রণয়নে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে একাধিক দফায় স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন করা হয়েছে। খসড়া নীতিমালা ও সংশোধিত সংস্করণও দুইবার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। নীতিমালাটি উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপনের পর চারজন উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নীতিমালায় বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়। এছাড়া বিদ্যমান লাইসেন্সধারীদের স্বার্থ বিবেচনায় দুটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- জুন ২০২৭ পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড এবং ডি-রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন লাইসেন্স কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ।’

এমন সুযোগ থাকার পরও বিভ্রান্তি ছড়াতে ‘টেলিকম খাতে সংস্কারমূলক এ উদ্যোগে’ ক্ষতিগ্রস্ত ‘টোল-আদায়কারী মাফিয়া ব্যবসায়ী’ গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে‘  বলে মন্তব্য করেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যাব।

//ডিবিটেক/এসআই/এমইউএম//