স্টারলিংক ও অ্যামাজনকে টেক্কা দিতে ইরিডিয়াম কিনছে রকেট ল্যাব
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ এবং অ্যামাজনের উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রকেট ল্যাব। নিজেদের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করার লক্ষ্যে তারা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইরিডিয়াম কমিউনিকেশনস’ কিনতে যাচ্ছে। নগদ অর্থ ও শেয়ারের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ সোমবার দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, এই চুক্তির মাধ্যমে রকেট ল্যাব সরাসরি ইরিডিয়ামের ৮০টি কৃত্রিম উপগ্রহের বিশাল নেটওয়ার্ক এবং তাদের বেতার তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) মালিকানা পেয়ে যাবে। এই উপগ্রহগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও সংযোগ রক্ষা করতে সক্ষম।
প্রযুক্তি খাতে ইরিডিয়াম একটি চেনা নাম। এর আগে বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে উপগ্রহভিত্তিক বার্তা আদান-প্রদান (স্যাটেলাইট টেক্সটিং) সেবা চালুর চেষ্টা করেছিল ইরিডিয়াম। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহের কারণে ২০২৩ সালে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।বর্তমান বাজারে স্পেসএক্সের স্টারলিংকের একচেটিয়া আধিপত্য এবং আকাশচুম্বী বাজারমূল্যের কারণে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে।
গত এপ্রিল মাসেই অ্যামাজন তাদের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা ‘লিও’র পরিধি বাড়াতে ‘গ্লোবালস্টার’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
রকেট ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী স্যার পিটার বেক এক বিবৃতিতে জানান, এই চুক্তি মহাকাশ যোগাযোগ প্রযুক্তিতে তাদের অবস্থানকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি মোবাইল ডিভাইস যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিশ্বব্যাপী অবস্থান নির্ণয় (জিপিএস বা নেভিগেশন) এবং সামরিক উপগ্রহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দিতে পারবে। আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ইরিডিয়ামের নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
তবে রকেট ল্যাব জানিয়েছে, তারা এই বিদ্যমান অবকাঠামোকে আরও উন্নত করে বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন উপগ্রহভিত্তিক সেবা চালু করবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





