২৯ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনে জোর

চার বছরের বকেয়া আয়কর পরিশোধ করল বিএসসিএল

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চার অর্থবছরের অনাদায়ী আয়কর বাবদ ২৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরকারকে এককালীন পরিশোধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা বলছে, অতীতের আর্থিক দায় নিষ্পত্তি আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের অংশ।

চার বছরের বকেয়া আয়কর পরিশোধ করল বিএসসিএল
২৮ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৩  

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চার অর্থবছরের অনাদায়ী আয়কর বাবদ মোট ২৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরকারকে এককালীন পরিশোধ করেছে। ২০১৮–১৯, ২০১৯–২০, ২০২০–২১ এবং ২০২১–২২ অর্থবছরের বকেয়া কর চলতি অর্থবছরের জুন মাসে পরিশোধ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব গ্রহণের পর আর্থিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে দীর্ঘদিনের বকেয়া দায় নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারকে এককালীন এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

বিএসসিএলের মতে, অতীতের আর্থিক দায় নিষ্পত্তির উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা, জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএসসিএলের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অতীতের যেসব আর্থিক দায় অনিষ্পন্ন ছিল, সেগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “চার অর্থবছরের অনাদায়ী আয়কর পরিশোধ সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের লক্ষ্য শুধু আর্থিক সাফল্য নয়, জবাবদিহিমূলক, টেকসই ও সুশাসনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসসিএলকে এগিয়ে নেওয়া।”

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বিএসসিএল। আলোচ্য অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় হয়েছে ২৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং মোট ব্যয় হয়েছে ২০৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

ফলে অর্থবছর শেষে বিএসসিএলের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রযুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতার আলোচনায় এ ফলাফলকে একটি উল্লেখযোগ্য সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

//ডিবিটেক/ইউএইচ/এমআই//