IPE স্কোর ৩.১৭, রাজস্বেও অগ্রগতি
সুশাসন মূল্যায়নে বিটিআরসি দ্বিতীয়
- ৩০ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মধ্যে ৩.১৭ স্কোরে দ্বিতীয় বিটিআরসি
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্য ছাড়িয়ে ৪,৪৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ
- ডিজিটাল সেবা, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকসেবায় একাধিক উদ্যোগ
টেলিযোগাযোগ খাতে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জনসেবা নিশ্চিতকরণে পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের Independent Performance Evaluation (IPE) প্রতিবেদনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাছাইকৃত ৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে ৩.১৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কমিশন।
অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল পরিচালিত ‘Strengthening of State-owned Enterprises Governance’ শীর্ষক স্কিমের আওতায় এই মূল্যায়ন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ‘Independent Performance Evaluation Committee (IPEC)’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পরিচালন দক্ষতা এবং জনস্বার্থমূলক নীতি বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিটিআরসির মহাপরিচালক মোঃ মেহেদি-উল-সহিদের হাতে ৪ অক্টোবর রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক রহিমা বেগম।
বিটিআরসি জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারের রাজস্ব আহরণেও কমিশন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল কর্তৃক প্রতিবছর নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিটিআরসি ধারাবাহিকভাবে বেশি রাজস্ব আহরণ করেছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৭৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ করেছে কমিশন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৮১ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ হাজার ৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
সুশাসন ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ও নীতিমালা প্রণয়ন, ভয়েস ও ইন্টারনেট ট্যারিফ ব্যবস্থাপনা এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া গণশুনানি আয়োজন, কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS) মানদণ্ড যাচাই, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরিমাপ, কমিশনের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস পরিচালনা, অবৈধ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম প্রতিরোধে অভিযান এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিটিআরসি।
স্বচ্ছ লাইসেন্সিং ও রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলা, গ্রাহক স্বার্থ ও সেবা মনিটরিং, গ্রাহক অধিকার ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে।
একই সঙ্গে অবকাঠামো ও নেটওয়ার্কের দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (SOF) ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা সম্প্রসারণ এবং টেলিকম অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে বিটিআরসির। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU) এবং এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (APT)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের কার্যক্রমও চলছে।
বিটিআরসির মতে, সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহকসেবা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং রাজস্ব আহরণে ধারাবাহিক কার্যক্রমের সমন্বিত ফল হিসেবেই এই স্বীকৃতি এসেছে। কমিশন আশা করছে, এ অর্জন ভবিষ্যতে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, সুশাসন ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে উৎসাহ দেবে।
//ডিবিটেক/এএএমবি/এসএমপি/বিপিও//





