গণমাধ্যম সহযোগিতার চার সমঝোতা স্মারকে তথ্য বিনিময়, এআই গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব

চীনের সমঝোতায় নিউ মিডিয়ায় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের আশা

চীনের সঙ্গে গণমাধ্যম সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্ঞান বিনিময় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় অগ্রগতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বেইজিং সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বৃহত্তর সহযোগিতা কাঠামোর অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার খাতেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে।

চীনের সমঝোতায় নিউ মিডিয়ায় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের আশা
২৮ জুন, ২০২৬ ১৩:৫৪  

চীনের সঙ্গে গণমাধ্যম সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া খাতে গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

গণমাধ্যম সহযোগিতায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চারটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি চারটি সমঝোতা স্মারকে চীন সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছি। এই স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ে আমরা একমত হয়েছি।”

তিনি বলেন, “চীনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর একটি দেশের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এই যৌথ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বর্তমান নিউ মিডিয়া খাতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি নতুন গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আস্থাবান।”

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতাগুলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে।

গণমাধ্যম খাতে পৃথকভাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনের অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কনটেন্ট বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্প্রচার অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ও রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির জাতীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা দুই দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।”

চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমানের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। প্রতিনিধি দলের প্রতি চীনের যে আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, “চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উল্লেখ করেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক গুণগতভাবে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। যা শুরু হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এবং পরবর্তী সময়ে আরও বিকশিত হয়েছে। এখন তা নতুন স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে প্রথমে মালয়েশিয়া যান। পরদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি চীনের দালিয়ান শহরে যান এবং পরে বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।

বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হলেন রেহান আসিফ আসাদসহ কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/বিডিএন/ইকে//