শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত

চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগে প্রকৌশল শিক্ষাবিদদের অগ্রাধিকার

  • সাবেক উপাচার্য পুনর্বহাল না হলে অভ্যন্তরীণ সিনিয়র অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের প্রস্তাব
  • কর্মবিরতির কারণে স্থগিত হওয়া প্রকৌশল বিভাগের পরীক্ষা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি
  • সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি

চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগে প্রকৌশল শিক্ষাবিদদের অগ্রাধিকার
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০৩  

দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং কারিগরি শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষায় উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে নতুন অবস্থান নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক সমিতি। চুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের মূল দাবির পাশাপাশি এখন থেকে চুয়েটের নিজস্ব প্রকৌশল শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিকল্প দাবি জোরালো করা হয়েছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবুল হাছানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি প্রস্তাব পাস হয়। একই সঙ্গে পূর্বঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি কর্মসূচিও অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডিন জানান, শিক্ষকরা এখনো তাদের সাবেক উপাচার্য পুনর্বহালের এক দফা দাবিতেই অটল রয়েছেন। তবে সরকার যদি তা না মানে, সে ক্ষেত্রে চুয়েটের নিজস্ব গ্রেড-১ পদমর্যাদার ২৬ জন সিনিয়র অধ্যাপকের মধ্য থেকে একজনকে উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মশালমিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন, মুখোশমিছিল ও কনসার্টসহ নানা অভিনব কর্মসূচি পালিত হয়।

টানা ১৭ দিনের এই অচলাবস্থায় প্রকৌশল বিজ্ঞানের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। চূড়ান্ত বর্ষের একাধিক পরীক্ষা সময়মতো নেওয়া যায়নি। এই সংকট থেকে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করতে এবং দ্রুত স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

//ডিবিটেক/সিএইচজিএইচ/এসএমপি/এমএসআই//