দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে সম্প্রচার
স্টারলিংকের সঙ্গে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু বাংলালিংকের
- স্টারলিংকের সঙ্গে বাংলালিংকের সরাসরি স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু
- গভীর সমুদ্র ও দুর্গম অঞ্চলে মিলবে সংযোগ
- সাধারণ ফোর-জি ফোনেই কার্যকর হবে নেটওয়ার্ক
মহাকাশপ্রযুক্তি ও সেলুলার নেটওয়ার্কের মেলবন্ধনে সরাসরি মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকে প্রচলিত স্মার্টফোনে সংযোগ পৌঁছে দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংকের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে দেশে চালু হলো ‘স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল’ বা ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই বৈপ্লবিক স্যাটেলাইট সেলুলার প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্ভাবনী সেবার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে প্রথাগত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক কাভারেজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাহাড় কিংবা গভীর সমুদ্রেও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করার সক্ষমতা অর্জন করল অপারেটরটি।
বাংলালিংক আশা করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় কিংবা দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে স্থলভাগের প্রচলিত মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন হলেও সরাসরি কক্ষপথের স্যাটেলাইটের সহায়তায় যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হবে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে থাকা ট্রলারের জেলে, উপকূলীয় ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য এই সেবা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এমনকি বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) সীমানাতেও গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ উপভোগ করতে পারবেন।
ঐতিহাসিক এই প্রযুক্তি রূপান্তর প্রসঙ্গে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে জানান, কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষ অবস্থান করে। সমুদ্রে থাকা জেলে যেন পরিবারের কাছে বার্তা পাঠাতে পারেন কিংবা দুর্গম প্রান্তের কোনো নাগরিক যেন জরুরি প্রয়োজনে বিচ্ছিন্ন না হন, সেটিই নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, দূরত্ব কিংবা ভৌগোলিক প্রতিকূলতা যেন যোগাযোগের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়; প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই ডিজিটাল অপারেটর হিসেবে বাংলালিংকের অগ্রাধিকার। যেখানেই খোলা আকাশ দৃশ্যমান থাকবে, সেখানেই গ্রাহকরা এখন সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকতে পারবেন।
বাংলালিংক সূত্রে প্রকাশ, কারিগরি দিক থেকে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কোনো বিশেষ স্যাটেলাইট ফোন বা দামি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়বে না; গ্রাহকের কাছে একটি সক্রিয় বাংলালিংক সংযোগ ও সাধারণ ফোর-জি (4G) সক্ষম হ্যান্ডসেট থাকলেই সরাসরি আকাশ থেকে সংকেত গ্রহণ করা যাবে। এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কহীন অফ-গ্রিড এলাকায় জরুরি বার্তা আদান-প্রদান, লোকেশন ট্র্যাকিং ও প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। সেবা চালুর প্রথম মাসে যেকোনো বাংলালিংক ডেটা বা মিক্সড বান্ডল প্যাকের সঙ্গে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। পরবর্তী মাসগুলো থেকেও নির্ধারিত বান্ডলের গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন এবং প্রতি মাসে বিনামূল্যে পাঁচটি জরুরি স্যাটেলাইট এসএমএস পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
//ডিবিটেক/টিআরবি/এসএমপি/বিপিও//





