শিক্ষক আনার উদ্যোগ

চীনা মডেলে কারিগরি শিক্ষা

  • চীনের কারিগরি শিক্ষার মডেল বাংলাদেশে প্রয়োগের উদ্যোগ
  • চীন থেকে কারিগরি শিক্ষক আনার প্রক্রিয়া চলমান
  • দক্ষ জনশক্তির জন্য সৌদিতে টেকনিক্যাল কলেজের পরিকল্পনা

চীনা মডেলে কারিগরি শিক্ষা
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৫  

বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও কর্মমুখী করতে চীনের কারিগরি শিক্ষার মডেল প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীন থেকে শিক্ষক আনার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে তৃতীয় ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কারিগরি শিক্ষায় আগের সরকারগুলোর উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিভিন্ন সময়ে এ খাতে গুরুত্ব দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় চীনের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, “চীনের টেকনিক্যাল (কারিগরি) শিক্ষার মডেল আমাদের টেকনিক্যাল শিক্ষায় আনছি। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। চুক্তি হয়েছে, কাজ চলমান। আমরা চীন থেকে টিচার নিয়ে আসবো।”

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আট মাসে এ উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে। সেই ভাষা চীনা ভাষাও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে আগস্টে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও মন্ত্রী বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। তখন কারিকুলাম, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার কথাও বলা হয়।

সৌদিতে টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ

দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে রেমিট্যান্স বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সৌদি আরবে একটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রতিষ্ঠান

দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, আগের সরকারও এ বিষয়ে কাজ করেছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও স্থান নির্বাচন নিয়ে সমস্যা হয়েছে। কচুয়া উপজেলায় সাবেক এক মন্ত্রীর বাড়িতে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজ এখন সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সব উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষায় অভিন্ন পরীক্ষা

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাদরাসা শিক্ষা কিছুটা ভিন্ন ধারায় এগোলেও সেখানে অগ্রগতি হচ্ছে। স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা একই বই পড়ছে এবং একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবি।

//ডিবিটেক/এফটিপি/এমভিএনও/বিপিসি//