গবেষণা ও দক্ষতায় নতুন অংশীদারত্ব
জাবিপ্রবিতে শিল্পখাতের সঙ্গে পাঁচ সমঝোতা
- পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে সমঝোতা
- শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব
- চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ বাড়ানোর দাবি
শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে প্রয়োগমুখী জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্পসম্পৃক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৩ অক্টোবর, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন চত্বরে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা নিয়ে সেমিনার এবং সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এসব চুক্তি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফলের বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির উৎকর্ষ, শিক্ষার্থীদের শিল্পভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের বাস্তব চাহিদা ও সমস্যাকে গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে গবেষণার ফলাফল আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে তিনি জাবিপ্রবির পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্প, জনবল সংকট নিরসন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, টিএসসি নির্মাণ এবং শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। এ ধরনের অংশীদারত্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
জাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরও প্রয়োগমুখী হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জাবিপ্রবিতে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জাবিপ্রবি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস, রুপল ইন্টিগ্রেট, ডাটা সফট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি ইনক লিমিটেড, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন এবং বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি।
সমঝোতাগুলোর আওতায় যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্পসম্পৃক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল। শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী নতুন বিভাগ চালু, ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। প্রধান অতিথিসহ সংশ্লিষ্ট অতিথিরা এসব বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এ ধরনের সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও অন্যান্য কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা হবে। জাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজিত এই সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
//ডিবিটেক/জেএনও/এমপিও/এমভিএনও//





