‘ক্রসমার্কেট এআই’ ও অনুমোদনহীন প্ল্যাটফর্মে লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ; বিএফআইইউতে অভিযোগের আহ্বান
২২টি অবৈধ পেমেন্ট এগ্রিগেটর ও ৩১টি ঋণ অ্যাপ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা
- অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম চালানো ২২টি অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্মে লেনদেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
- সহজ শর্তের ঋণের প্রলোভনে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি হাতিয়ে ব্ল্যাকমেইল করায় ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপ চিহ্নিত করেছে বিএফআইইউ
- ‘crossmarket.ai’ নামের অবৈধ প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ ও লেনদেন ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ
দেশে লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পরিচালিত ২২টি অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম এবং সহজ শর্তে প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া ৩১টি অনুমোদনহীন ডিজিটাল ঋণ অ্যাপের বিষয়ে সর্বসাধারণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্ল্যাটফর্মে যেকোনো ধরনের অর্থ জমা, বিনিয়োগ বা ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (পিএসএসডি) জানিয়েছে, লাইসেন্সবিহীন পেমেন্ট এগ্রিগেটর সেবা পরিচালনা ও তাতে অংশগ্রহণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শনাক্ত করা ২২টি অবৈধ প্ল্যাটফর্ম হলো— BohudurPay, ZiniPay, PayTiller, BengaliPay, Payora BD, SohojPay BD, EasyPayWay, AK Pay, BD PAY, ShajgarPay, AsthaPay / CPay, UddoktaPay, Walletmix, BttPay, Easy Pay Automation, UniquePay BD, BD AUTO PAY, RH Pay BD, EzePay, AutoPay Ltd, Biswasto এবং PipraPay। এসব প্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ‘crossmarket.ai’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অবৈধ বিনিয়োগ গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী অনুমোদনহীন কোনো মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বা জমা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন কার্যক্রমে যুক্ত হলে সাধারণ নাগরিকরাও অজান্তে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।
এদিকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার নামে ৩১টি অনুমোদনবিহীন মোবাইল অ্যাপ তৎপর রয়েছে। এগুলো ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনে থাকা কন্টাক্ট নম্বর, ছবি ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ডেটা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ঋণ আদায়ের নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল, সামাজিক সম্মানহানির হুমকি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
বিএফআইইউ’র চিহ্নিত ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপ হলো— সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
গ্রাহকদের সচেতন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চারটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে: ১. অনুমোদনবিহীন কোনো অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়া; ২. প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবৈধ ঋণ কার্যক্রম এড়িয়ে চলা; ৩. ঋণের প্রলোভনে পড়ে অপরিচিত কোনো অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোনের অ্যাক্সেস না দেওয়া; ৪. ঋণ দেওয়ার নামে অগ্রিম কোনো প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি চাওয়া হলে তা পরিহার করা।
এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে বা তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউয়ের ওয়েবসাইট অথবা মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
//ডিবিটেক/সিএনটিআর/ এসএমপি/ বিপিসি//





