কড়া নিরাপত্তায় জ্বালানি পরিবহন

ফলোআপঃ রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম

  • দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছেছে
  • তিনটি বিশেষ লরিতে কড়া নিরাপত্তায় জ্বালানি পরিবহন করা হয়
  • ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের ১৬৩ জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আসবে

ফলোআপঃ রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬  
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮  

রাশিয়া থেকে আসা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের চালান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ৩ অক্টোবর, শনিবার  দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনটি বিশেষ লরির বহর ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা পুরো পরিবহনপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

রূপপুর প্রকল্পের গ্রিনসিটি সাইট অফিস ইনচার্জ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবিএম রুহুল কুদ্দুস চালানটি প্রকল্পে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।

এর আগে ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাতে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। একাধিক সূত্রে অবতরণের সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ছিলো।

বিমান থেকে জ্বালানি নামানো এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বহরটি। যাত্রাপথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু হয়ে নাটোরের বনপাড়া এবং পাবনার দাশুড়িয়া অতিক্রম করে বহরটি প্রকল্পে পৌঁছায়।

নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে রূপপুর পর্যন্ত মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালানি বহনকারী বহরের জন্য নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়। পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কিছু অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। বহরটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর সময়সূচি একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছিল। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি আসার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি-সংক্রান্ত জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকটি ফ্লাইটে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি জানানো হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি কার্গো ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত প্রয়োজনের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের মূল জ্বালানি সরবরাহের জন্য সাতটি চালান এবং প্রথম ইউনিটের পরবর্তী রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি চালান নির্ধারিত রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং দুটি ইউনিট মিলে মোট স্থাপিত ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যেও রূপপুরের দুই ইউনিটের এই প্রযুক্তি ও উৎপাদনক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে কমিশনিং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে কাজ চলছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রেসার-সংক্রান্ত সেফটি ভালভের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করার পর গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বাংলাদেশে আসে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে এবং প্রকল্পটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির আওতায় প্রকল্পটির নির্মাণ ও পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রূপপুর প্রকল্পের সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে রোসাটমের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট কাজ করছে।

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পের দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থায় মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা, কমিশনিং ও নিয়ন্ত্রক যাচাই—সবগুলো ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিটগুলো বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে এগোবে।

//ডিবিটেক/ইসিকেকে/এসপিএম/এমভিএনও//