ইইউতে গুগলকে ৪৬ কোটি ডলার জরিমানা
ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য (লোকেশন ডাটা) সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর গোপনীয়তা আইন বা জিডিপিআর লঙ্ঘনের দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে ৪০ কোটি ৩ লাখ ইউরো (প্রায় ৪৬ কোটি ৩ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছে আয়ারল্যান্ডের ডাটা প্রোটেকশন কমিশন (ডিপিসি)।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে গুগলের ইউরোপীয় প্রধান কার্যালয় অবস্থিত হওয়ায় ইইউ-এর পক্ষে সংস্থাটি এই তদন্ত পরিচালনা করে। জরিমানার পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের লোকেশন ডাটা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে ইউরোপীয় জিডিপিআর আইনের আওতায় নিয়ে আসার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অনিয়ম ও তদারকি সংস্থার পর্যবেক্ষণ
২০২০ সালে বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ তদন্তে মূলত ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুগলের তিনটি নির্দিষ্ট ফিচার পর্যবেক্ষণ করা হয়। এগুলো হলো- ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’, ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ এবং অ্যান্ড্রয়েডের ‘লোকেশন একুরেসি’।
ডিপিসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গুগল ব্যবহারকারীদের লোকেশন তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়াই বিজ্ঞাপন তৈরি বা আগ্রহ মূল্যায়নে এই ডাটা অতিরিক্ত সময় মজুত রেখে জিডিপিআরের নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। জিডিপিআর চালু হওয়ার পর ডিপিসির দেওয়া বড় জরিমানাগুলোর মধ্যে এটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
গুগলের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
এই রায়ের জবাবে গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচিত আইনি বিষয়টি তাদের পুরোনো নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ইতোমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের পর থেকে তথ্য সুরক্ষায় তারা আমূল পরিবর্তন এনেছে এবং তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুবিধাসহ গ্রাহকদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউরোপের বাজারে গুগলের আইনি জটিলতা এটিই প্রথম নয়; ইতিপূর্বে ২০১৮ সালের অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের আপিল হারানো এবং সার্চ রেজাল্টে নিজেদের সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগে ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই টেক জায়ান্টকে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





