টিআরএনবির কর্মশালায় দাবি; ব্যান্ডউইথ ঘাটতি এড়াতে দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান
বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবলে ইন্টারনেটের দাম কমার সম্ভাবনা ৫০%
- বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চালু হলে ব্যান্ডউইথের দাম ৫০% পর্যন্ত কমবে এবং সেবার মান বাড়বে ৩০%
- দেশে ব্যান্ডউইথ চাহিদা বেড়েছে ২৬০ গুণ; ২০২৮ সালের মধ্যে ২০ টেরাবিটের বেশি ঘাটতির আশঙ্কা
- ভারত থেকে আইটিসি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ৫১ টেরাবিটের প্রস্তাবিত ক্যাবল দ্রুত চালুর তাগিদ
দেশে দ্রুত বর্ধনশীল আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটানো এবং অনুমোদিত বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক চালু করা গেলে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি, লেটেন্সি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস এবং সামগ্রিক ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
৩১ আগস্ট, ২০২৬ সোমবার ঢাকার অদূরে গাজীপুরের একটি রিসোর্টে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়। টিআরএনবির সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন।
কর্মশালায় মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, "দেশে প্রাইভেট সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে জাতীয় ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হবে। বাজারে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হলে ব্যান্ডউইথের পাইকারি ও খুচরা মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ কমে আসবে।" কনসোর্টিয়াম প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সি-মি-উই-৪ সহ সব সাবমেরিন ক্যাবলই কনসোর্টিয়ামে চলে। তবে কনসোর্টিয়ামভুক্ত হলেও সিডিনেট, মেটাকোর ও সামিট বাজারে একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করবে, যা একক আধিপত্য ভেঙে সেবার মান ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সাবমেরিন অপারেটরদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো সাবমেরিন প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি)।
অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সিইও মশিউর রহমান এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রজেক্ট লিড মাহমুদ শাহেদ। এ সময় মেটাকোর সাবকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুনায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, গত ১৩ বছরে দেশে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ২৬০ গুণ বেড়েছে। ২০১৩ সালের ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ চাহিদা ২০২৬ সালে প্রায় ১৩.৫ টেরাবিটে (টিবিপিএস) উন্নীত হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী এ চাহিদা ২০২৭ সালে ১৯.১ টেরাবিট, ২০২৮ সালে ২৭ টেরাবিট, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাবে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশ কেবল দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ক্যাবলের (সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫) ওপর নির্ভরশীল, যার সম্মিলিত সক্ষমতা মাত্র ৭.১ টেরাবিট। অবশিষ্ট সিংহভাগ ব্যান্ডউইথ আমদানি হচ্ছে আইটিসির মাধ্যমে।
তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ভারতে ১৯টি, মালয়েশিয়ায় ২৩টি এবং থাইল্যান্ডে ১২টি সাবমেরিন ক্যাবল রয়েছে। সি-মি-উই-৬ যুক্ত হলেও ২০৩০ সালে প্রথম ক্যাবলের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় ২০২৮ সালের মধ্যেই দেশে প্রায় ২০ টেরাবিট ব্যান্ডউইথ ঘাটতির ঝুঁকি রয়েছে। তাই বেসরকারি খাতের প্রস্তাবিত ৫১ টেরাবিট সক্ষমতার ক্যাবল অবিলম্বে চালুর অনুমোদন দেওয়া না হলে অতীতে সি-মি-উই-৩ মিস করার মতো কৌশলগত ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেন।
//ডিবিটেক/এইচএটিপি/এমআইএসটি//





