স্থানীয় সরকারে ই-সেবার দুর্বল চিত্র প্রকাশ করল সিপিডি
৭ শতাধিক সেবা তালিকায় থাকলেও এন্ড-টু-এন্ড অনলাইন নেই; তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিতে নারীরা
- ৭০০-র বেশি ডিজিটাল সেবার কোনোটিই শতভাগ 'এন্ড-টু-এন্ড' অনলাইন নয়; পদে পদে ভোগান্তি
- ই-সেবা নেওয়ার পর ৬১ শতাংশ নারী ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অবাঞ্ছিত বার্তার শিকার
- অবকাঠামো প্রস্তুতি সূচকে স্থানীয় সরকার অফিসের স্কোর মাত্র ২৪.১; সাইবার সুরক্ষা ও ব্যাকআপ সংকট
দেশে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাত শতাধিক সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়ার দাবি করা হলেও বাস্তবে কোনো সেবাই শতভাগ ডিজিটাল বা ‘এন্ড-টু-এন্ড’ অনলাইন নয় বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
৩১ আগস্ট, ২০২৬ সোমবার রাজধানীতে ‘কার্যকর ও দায়বদ্ধ ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক এক জাতীয় সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ, রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ এবং রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট সাবিহা শারমিন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত এই গবেষণায় সারা দেশের ২ হাজার ৬১১ জন নাগরিক এবং ২৯৭টি স্থানীয় সরকার অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
সমীক্ষায় দেখা যায়, কাগজে-কলমে ডিজিটাল সেবা থাকলেও নাগরিকদের সশরীরে অফিসে গিয়ে কাগুজে নথি জমা, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, অফলাইনে ফি পরিশোধ কিংবা তদবির করতে হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে সম্পূর্ণ সেবা অনলাইনে পাওয়ার হার নারীদের ক্ষেত্রে ৩১.৯ শতাংশ এবং তরুণদের ক্ষেত্রে ৪৩.৮ শতাংশ।
অন্যদিকে ই-সেবা তালিকায় থাকা সত্ত্বেও ৩৮ শতাংশ নারীকে কেবল অনলাইন ফরম পূরণ শেষে বাকি পুরো প্রক্রিয়ার জন্য সরকারি অফিসে ছুটতে হয় এবং ৬.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে এখনো কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হচ্ছে।
গবেষণায় ডিজিটাল সেবায় ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষায় মারাত্মক ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী নারীদের ৭৩.২ শতাংশ ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা হ্যাকিংয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন এবং ৬১ শতাংশ নারী ই-সেবা গ্রহণের পর অবাঞ্ছিত ফোনকল ও বার্তার মতো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া সিপিডির প্রস্তুতকৃত 'ই-গভর্ন্যান্স প্রিপেয়ার্ডনেস ইনডেক্স'-এ স্থানীয় সরকারি অফিসগুলোর সামগ্রিক প্রস্তুতি স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮.৯ এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতিতে স্কোর সর্বনিম্ন ২৪.১। মাঠপর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি অফিসের ৪৪ শতাংশ কম্পিউটার অকেজো, ৯৭ শতাংশ অফিসে বিদ্যুতের ব্যাকআপ নেই এবং ৯৩ শতাংশ অফিসে কোনো বিকল্প ইন্টারনেট ব্যবস্থা নেই। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের ৯০ শতাংশের বেশি অফিসে ডেটা সুরক্ষার কোনো আনুষ্ঠানিক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) নেই।
এ সংকট নিরসনে সিপিডি প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনকে ডিজিটাল সেবায় দক্ষ করা, আবেদন থেকে সনদ বিতরণ পর্যন্ত শতভাগ পেপারলেস এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন চালু করা, নারীর সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষায় ডিজিটাল কোডিং বা ছদ্মনাম ব্যবহারের সুযোগ এবং একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করতে 'নো রং ডোর' নীতি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।
//ডিবিটেক/ এনএপি/এমআইএসটি//





