ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতিতে সিম নিবন্ধন, গ্রেফতার দুই

• বায়োমেট্রিক জালিয়াতিতে অতিরিক্ত সিম তুলে এমএফএস প্রতারণা
• চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে টাকা আত্মসাৎ
• দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে সিআইডির হাতে মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার দুই

ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতিতে সিম নিবন্ধন, গ্রেফতার দুই
২০ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:১৯  

গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট কারিগরি কৌশলে একাধিকবার সংগ্রহ করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন এবং তা দিয়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট খুলে ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। যশোরের এক চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্তে নেমে এই তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পায় সংস্থাটি। ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—একটি মোবাইল অপারেটরের সাবেক সুপারভাইজার ও চক্রের মূলহোতা শাহীনুর রহমান শাহিন (৫০) এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক ব্র্যান্ড প্রমোটার সঞ্জয় গুপ্তা (৩১)। গত ১৯ আগস্ট বিকেলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির যশোর জেলা ইউনিটের একটি দল তাদের গ্রেফতার করে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, শাহীনুর রহমান অপারেটরটিতে কর্মরত থাকার সময় অধীন ব্র্যান্ড প্রমোটারদের দিয়ে গ্রাহকের অজ্ঞাতে একাধিকবার আঙুলের ছাপ নিয়ে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করাতেন। আসল গ্রাহককে একটি সিম দিয়ে বাকি নিবন্ধিত সিমগুলো নিজের হেফাজতে রাখতেন। পরে ওই সিমগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিকাশসহ অন্যান্য এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা হতো এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে ক্রেডিট কার্ড ও ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণায় ব্যবহার করা হতো।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর যশোরের এক চিকিৎসক মুজিব সড়কের একটি শোরুমে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা করার সময় লেনদেনে বিলম্ব ঘটে। এর ১০ দিন পর ৩১ ডিসেম্বর অপরিচিত নম্বর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে ফোন করে কার্ড স্থগিতের ভয় দেখিয়ে নিরাপত্তা তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। ওই রাতেই সাতটি লেনদেনের মাধ্যমে চিকিৎসকের ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ছয়টি অবৈধ এমএফএস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।

সিআইডি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও পূর্বে গ্রোফতারকৃত আসামির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে এই চক্রের হোতাদের শনাক্ত করা হয়। আসামিরা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
//ডিবিটেক/ডিপিও/এমআইএস//