তাল্লিনে বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া ২য় ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত; আইসিটি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর

ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ এস্তোনিয়ার

বাংলাদেশের ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া। ১০ আগস্ট, সোমবার এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে আয়োজিত বাংলাদেশ-এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় দফার ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে উভয় দেশ রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং সাইবার ও ডিজিটাল রূপান্তরে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করে। 

ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ এস্তোনিয়ার
১০ আগষ্ট, ২০২৬ ২২:৪৩  

ঢাকা, ১১ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম ডিজিটালি উন্নত দেশ এস্তোনিয়া। ১০ আগস্ট (সোমবার) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় দফার ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) বিষয়টি প্রাধান্য পায় বলে বৈঠক সূত্রে জানাগেছে। 

সূত্রমতে, দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ। বৈঠকে উভয় দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

আইসিটি ও ডিজিটাল রূপান্তরে বিশেষ অগ্রাধিকার:

বৈঠকে প্রধানতম আলোচনার বিষয় ছিল তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা। ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময় (Data Exchange), উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব বাড়াতে এস্তোনিয়া বাংলাদেশকে কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এস্তোনিয়া জানায়, দেশটির বেশ কয়েকটি শীর্ষ ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে এবং সরাসরি বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ইইউ ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’:

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরে এবং এস্তোনিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। বাণিজ্য জোরদারে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, শীর্ষ চেম্বারগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই এবং এস্তোনিয়ার একটি অনুসন্ধানী ব্যবসায়ী দলের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব করা হয়।

পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী (কেয়ারগিভার), নির্মাণ শ্রমিক ও আতিথেয়তা খাতের দক্ষ কর্মীদের এস্তোনিয়ায় কর্মসংস্থানের বিষয়ে উভয় দেশই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:

কনসালটেশনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর, জাতীয় সংসদে 'পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ' গঠন, শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া বাণিজ্য বৃদ্ধি, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে কয়েকটি ঝুলে থাকা দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি দ্রুত নিষ্পত্তিতে তারা একমত হন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক প্রার্থীতা সমর্থনে একমত হওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পাশে থাকার পুনর্ব্যক্ত আশ্বাস দিয়েছে এস্তোনিয়া।

প্রসঙ্গত, বৈঠকের আগে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

//ডিবিটেক/ডিপিও/এসএমই//