বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইন্টারন্যাশনাল কার্ডে টিউশন ফি দেওয়ার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করা যাবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভর্তি প্ল্যাটফর্মের ফি
- শিক্ষা ব্যয়ের এই অর্থ বার্ষিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট কোটার সাথে সমন্বয় বা কর্তন করা হবে না
- আন্তর্জাতিক কার্ড সুবিধা শিক্ষার্থী নিজের নামে অথবা তার পড়ালেখার খরচ বহনকারী অভিভাবকের নামে গ্রহণ করতে পারবেন
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬: বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে গমনকারী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থী বা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবকের নামে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রিপেইড কিংবা ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি কার্ডের মাধ্যমে আবেদন ফি ও টিউশন ফি পরিশোধের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থার অধীনে শিক্ষার্থীর নিজ নামে অথবা তার পড়াশোনার অর্থসংস্থানকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে, যা দিয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি প্রদান করা সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো—এই আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধিত শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় সম্পূর্ণ আলাদা লেনদেন হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত বার্ষিক ভ্রমণ কোটা (Travel Quota) বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমার সঙ্গে এ ফি সমন্বয় করা হবে না।
তবে আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে, শুধুমাত্র অনুমোদিত শিক্ষাসংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনের নথি সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত পারপাস কোড (Purpose Code) ব্যবহার করে নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যাংকিং ড্রেফটের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।
//ডিবিটেক/জেএনও/এমএসআই//





