১ লাখ ৯ হাজার ব্রডব্যান্ড সংযোগের কাজ চলমান, টিকিয়ে রাখা হবে টেলিটককে

২০২৭ সালে আসছে ৫জির নতুন স্পেকট্রাম, কলড্রপ ও ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে অপারেটরদের ওপর চাপ

দেশে ফাইভ-জি সেবা সম্প্রসারণে ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করা হবে। একই সাথে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় কলড্রপ ও ইন্টারনেট প্যাকেজের অব্যবহৃত ডেটার মেয়াদ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী।

২০২৭ সালে আসছে ৫জির নতুন স্পেকট্রাম, কলড্রপ ও ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে অপারেটরদের ওপর চাপ
১২ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৫  

দেশজুড়ে ৫জি (ফাইভ-জি) সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটরদের ২.৩ গিগাহার্জ ও ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বরাদ্দ শেষে ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করা হবে। এ ছাড়া গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কলড্রপ সমস্যা নিরসন এবং ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডেটার ন্যায্য ব্যবহারের বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের ওপর সরকারের চাপ অব্যাহত থাকবে।

১২ জুলাই, রবিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ, আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রী দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক— এই চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটককে বাজারে টিকিয়ে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় এই অপারেটরটি না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান বাড়াতে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে নতুন মোবাইল টাওয়ার স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় এখনও নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে টেলিটকসহ অন্যান্য অপারেটরের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে।

গ্রাহক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৭ দিন বা ১৫ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজের অব্যবহৃত ডেটার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অপারেটরদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছে। কলড্রপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অপারেটররা তাদের ব্যবসায়িক নীতির পক্ষে যুক্তি দিলেও গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের ওপর চাপ বজায় থাকবে।

ডিজিটাল কানেক্টিভিটি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে এবং রেমিট্যান্স প্রেরণ আরও সহজ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের তরুণ সমাজকে ক্ষতিকর অনলাইন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এবং আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার আওতায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশব্যাপী জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কারের কাজ চলছে বলেও মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।
//ডিবিটেক/এসএইচ/এমআই/ইডি//