নোবেলজয়ী ‘আলফাফোল্ড’ প্রকল্প বন্ধ করল গুগল
রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ঐতিহাসিক 'আলফাফোল্ড' প্রজেক্টের দলটিকে অবশেষে ভেঙে দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা কেন্দ্র ডিপমাইন্ড। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ডিপমাইন্ড তাদের মূল অগ্রাধিকার এবং বাজেট এখন নিজেদের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল 'জেমিনি'র দিকে পুনর্নির্দেশিত করায় আলফাফোল্ডের মূল গবেষকদের অন্য বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং অনেকে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলেও গেছেন।
বিজ্ঞান জগতে আলফাফোল্ডের যুগান্তকারী অবদান
২০১৮ সালে আলফাফোল্ড তৈরির কাজ শুরু করে গুগল ডিপমাইন্ড। প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন বা অ্যামিনো অ্যাসিড কীভাবে ভাঁজ হয়ে জটিল রূপ নেয়, তা নিয়ে প্রায় অর্ধশতক ধরে বিভ্রান্তিতে ছিলেন বিজ্ঞানীরা। এক্স-রে ও পারমাণবিক চুম্বকীয় অনুনাদ প্রযুক্তির সাহায্যে আগে যেখানে সামান্য কিছু প্রোটিনের গঠন উদ্ভাবনে বহু বছর লেগে যেত, সেখানে আলফাফোল্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মিনিটেই তা নিখুঁতভাবে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে মানবদেহের সম্পূর্ণ প্রোটোম এবং প্রায় ২০ কোটি প্রোটিনের কাঠামোগত তথ্য গবেষকদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ওষুধ আবিষ্কার, নতুন টিকা তৈরি এবং অ্যালঝেইমার বা পারকিনসনের মতো স্নায়বিক রোগের কারণ অনুসন্ধানে এই প্রযুক্তি বিপ্লব এনে দেয়। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস ও জ্যেষ্ঠ গবেষক জন জাম্পার।
গবেষক দল ভেঙে দেওয়ার মূল কারণ
তবে নোবেল জয়ের দুই বছর না পেরোতেই এই মূল প্রজেক্টটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল। গত মাসে এই প্রজেক্টের প্রাণপুরুষ জন জাম্পার গুগল ডিপমাইন্ড ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকে যোগ দেন এবং তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ গবেষকও দল ত্যাগ করেন। আলফাফোল্ডের বাকি গবেষকদের জেমিনি-ভিত্তিক প্রজেক্ট, এনজাইম ডিজাইন কিংবা ডিপমাইন্ডের ঔষুধ গবেষণা অঙ্গপ্রতিষ্ঠান 'আইসোমরফিক ল্যাবস'-এ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিষয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুশমিত কোহলি এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় জানান, গত নয় বছর তাদের মূল কৌশল ছিল একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা। তবে প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সামগ্রিক পরিবর্তনের কারণে এখন তাদের মূল কৌশল পাল্টেছে। গুগল এখন নির্দিষ্ট কোনো বিজ্ঞান গবেষণার বদলে পুরো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে এমন সর্বজনীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেমিনি এআই মডেল তৈরিতে নিজেদের সমস্ত সম্পদ ও শক্তি নিয়োগ করতে চায়।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





