ডিজিটাল বিভাজন থেকে এআই দারিদ্র্য: বাংলাদেশের পরবর্তী উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল বিভাজন থেকে এআই দারিদ্র্য: বাংলাদেশের পরবর্তী উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ
১ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৫  

এক নতুন বিভাজনের উদয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) বাংলাদেশের জন্য এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। শ্রেণিকক্ষ, ব্যাংক, হাসপাতাল, গণমাধ্যম, কল সেন্টার, সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে কৃষিসেবা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় এটি ইতোমধ্যে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে। কারও জন্য এটি দ্রুত সেবা, নতুন কর্মসংস্থান, বর্ধিত উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতার অপার দুয়ার খুলে দিচ্ছে; আবার অনেকের জন্যই এটি বঞ্চনার এক নতুন ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, গ্রামীণ মানুষ, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ভাষাগত সংখ্যালঘু এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীরা এই প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

এই নতুন ও উদীয়মান ঝুঁকির নামই হলো ‘এআই দারিদ্র্য’ (AI Poverty)।

এআই দারিদ্র্য বলতে কেবল চ্যাটজিপিটি বা কোনো আধুনিক এআই টুল ব্যবহার করতে না পারাকে বোঝায় না। এর গভীরতা আরও অনেক বেশি। এর অর্থ হলো—যেসকল ডেটা, দক্ষতা, ভাষা, অবকাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে এআই কাজ করে, তা থেকে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বাদ পড়ে যাওয়া। এর ফলে মানুষ হয়তো প্রযুক্তির নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে, কিন্তু তার কোনো নিজস্ব ক্ষমতা থাকবে না। তাকে ডেটার সংখ্যায় গণনা করা হবে, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর থাকবে উপেক্ষিত। সে অ্যালগরিদমিক ব্যবস্থার অধীনস্থ হবে, কিন্তু সেই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার তার থাকবে না।

বাংলাদেশ অতীতে এই চ্যালেঞ্জেরই একটি প্রাথমিক রূপ দেখেছে, যা ‘ডিজিটাল বিভাজন’ (Digital Divide) নামে পরিচিত। বহু বছর ধরে আমাদের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মোবাইল সংযোগ, ইন্টারনেট ব্যবহার ও ডিজিটাল লেনদেন। এসব ক্ষেত্রে অর্জনও কম নয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে একটি বড় অগ্রগতি।

সংযোগ বনাম প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি

তবে কেবল সংখ্যার পরিমাপ দিয়ে প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির চিত্র বোঝা যায় না। একটি মোবাইল সংযোগ বা ঘরে একটি স্মার্টফোন থাকার মানেই এই নয় যে, সেই পরিবারের নারী, শিশু, প্রবীণ বা কর্মজীবী মানুষটি নিরাপদ ও ফলপ্রসূভাবে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। সংযোগ হলো কেবল প্রবেশদ্বার। মূল প্রশ্নটি হলো—কারা সেই দুয়ার পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে এবং ভেতরের জগতকে নিজের জীবনের মানোন্নয়নে কাজে লাগাতে পারছে?

এই প্রশ্নটি এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও জরুরি হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জেনেভায় জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সমাজকে এক মঞ্চে এনে এআইয়ের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাই এই সংলাপের লক্ষ্য। আলোচনার মূল এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে এআই বিভাজন কমানো, নিরাপদ প্রযুক্তি, মানবাধিকার রক্ষা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল কোনো দূরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনা নয়, বরং এটি আমাদের অস্তিত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্ন। এআই শাসনব্যবস্থা যদি কেবল শক্তিশালী অর্থনীতি ও বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে গড়ে ওঠে, তবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো কেবলই অন্যের তৈরি ব্যবস্থার ভোক্তা হবে। আমাদের নির্ভর করতে হবে অন্যের ডেটায় প্রশিক্ষিত মডেলের ওপর, চলতে হবে অন্যের লেখা নিয়মে। একে ডিজিটাল রূপান্তর বলা চলে না; এটি মূলত ‘ডিজিটাল নির্ভরতা’।

ডেটা ও কাঠামোগত বাস্তবতার সংকট

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি অ্যাক্সেস অ্যান্ড ইউজ সার্ভে ২০২৪-২৫’ আমাদের এক বাস্তব সতর্কবার্তা দেয়। দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের গড় হার ৫৩.৪ শতাংশ। তবে শহরে এই হার ৭৫.৭ শতাংশ হলেও গ্রামে মাত্র ৪৩.৬ শতাংশ—অর্থাৎ শহর ও গ্রামের ব্যবধান ৩১.১ শতাংশ পয়েন্টের। পাশাপাশি স্মার্টফোন মালিকানা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যও অত্যন্ত স্পষ্ট।

এই পরিসংখ্যান মনে রাখা জরুরি, কারণ এআই কেবল ফাঁকা স্লোগানের ওপর ভর করে চলে না। এর ভিত্তি হলো ডেটা, ডিভাইস, ভাষা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।

গ্রামীণ একজন শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও যদি দক্ষ শিক্ষক, মানসম্মত ডিভাইস কিংবা স্থানীয় ভাষায় কনটেন্ট না থাকে, তবে এআই তার শিক্ষার কোনো গুণগত পরিবর্তন করতে পারবে না। একজন কৃষকের যদি ডিজিটাল ফসল উৎপাদন ও লেনদেনের সঠিক ইতিহাস বা ভূমি রেকর্ড না থাকে, তবে এআই-ভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন ব্যবস্থায় তিনি অদৃশ্যই থেকে যাবেন। একইভাবে, একজন নারী যদি অনলাইন হয়রানি বা ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হন, তবে এআই তার উপকারের চেয়ে ক্ষতিই করবে বেশি।

প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো—টুলে প্রবেশাধিকার পাওয়া মানেই অন্তর্ভুক্তি। বাস্তবে তা নয়। বিদ্যালয়ে চ্যাটবট থাকলেই শিক্ষার সংস্কার হয় না, যদি না শিক্ষকেরা প্রশিক্ষিত হন। ব্যাংকে এআই ব্যবস্থা থাকলেই প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটে না, যদি তাদের কোনো ডেটা হিস্ট্রি না থাকে। ত্রুটিপূর্ণ গ্রামীণ স্বাস্থ্য রেকর্ডের কারণে এআই স্বাস্থ্যসেবা টুল ব্যর্থ হতে বাধ্য। ঠিক তেমনি, স্বয়ংক্রিয় সরকারি সেবা নাগরিকবান্ধব হবে না, যদি মানুষ না জানে অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সংক্ষুব্ধ হলে কোথায় আপিল করতে হবে।

এআই ব্যবস্থা মূলত ডেটার ওপর নির্ভরশীল, আর ডেটা কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। যদি বাংলাদেশের এআই মডেলগুলো প্রধানত শহুরে, প্রাতিষ্ঠানিক, ইংরেজি বা এলিট শ্রেণির ডেটাসেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, তবে তা দৃশ্যমান মানুষকে আরও দৃশ্যমান করবে, আর প্রান্তিক মানুষকে আরও অদৃশ্য করে তুলবে।

এখানেই এআই দারিদ্র্যের চরিত্রটি ডিজিটাল বিভাজনের চেয়েও মারাত্মক। ডিজিটাল বিভাজন ছিল মূলত সুযোগের অভাব (যাদের ইন্টারনেট আছে বনাম যাদের নেই)। আর এআই বিভাজন হলো ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা—যারা ডেটা ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করে বনাম যারা না বুঝেই সেই ব্যবস্থার শিকল পরে।

বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি পরিবারে হয়তো সস্তা ফোন আছে, কিন্তু নিয়মিত ডেটা প্যাক কেনা, ডিভাইস মেরামত বা সাইবার নিরাপত্তার খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের নেই। এর ফলে তৈরি হচ্ছে এক ধরণের 'আংশিক অন্তর্ভুক্তি'। মানুষ ডিজিটাল জগতে উপস্থিত থাকছে ঠিকই, কিন্তু এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।

নীতি থেকে বাস্তবায়নের পথ

বাংলাদেশের ‘খসড়া জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ২০২৬-২০৩০’-এ ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, ডেটা গভর্ন্যান্স ও মানবিক তদারকির মতো বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রশংসনীয় সূচনা হলেও আসল পরীক্ষা হবে এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে।

এআই শাসনব্যবস্থার এই আলোচনা যেন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রণালয় বা দাতা সংস্থাগুলোর সেমিনার কক্ষের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এআইকে যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণে লাগাতে হয়, তবে গ্রামীণ শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নারী সংগঠন, প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী, কৃষক ও তৃণমূলের নাগরিক সমাজকে এই নীতি নির্ধারণে অংশীদার করতে হবে। অন্যথায়, আমরা মানুষের জন্য ব্যবস্থা তৈরি করব, কিন্তু মানুষকে ছাড়াই—যা পুরোনো ভুলেরই পুনরাবৃত্তি।

আমাদের করণীয়: মানুষকেন্দ্রিক এআই এজেন্ডা

এআই দারিদ্র্য স্থায়ী রূপ নেওয়ার আগেই আমাদের একটি সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘মানুষকেন্দ্রিক এআই এজেন্ডা’ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে: এআই চালুর ফলে কার ক্ষমতা বাড়ছে, আর কার কমছে? এই লক্ষ্য অর্জনে ৬টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. ডেটা ন্যায্যতা (Data Justice): ডেটাকে দৃশ্যমান অবকাঠামোর (সড়ক, বিদ্যুৎ) মতো একটি অপরিহার্য 'অদৃশ্য জন-অবকাঠামো' হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উচ্চমানের ও সুরক্ষিত ডেটাসেট তৈরি করতে হবে, যেখানে নাগরিকের সম্মতি ও গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। ২. নাগরিক এআই সাক্ষরতা: এআই সাক্ষরতা মানে কেবল কোডিং শেখা নয়। নাগরিকদের সাধারণ শিক্ষায় জানাতে হবে এআই কীভাবে কাজ করে, এর পক্ষপাত বা ডিপফেকের ঝুঁকি কোথায় এবং ভুল সিদ্ধান্তকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়। লক্ষ্য সবাইকে প্রোগ্রামার বানানো নয়, বরং নাগরিকদের ক্ষমতায়ন। ৩. আঞ্চলিক ও বাংলা ভাষার এআই: আমাদের এমন এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে যা স্থানীয় বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য, উচ্চারণ ও আঞ্চলিক উপভাষা বুঝতে সক্ষম। স্থানীয় ভাষায় কৃষি, স্বাস্থ্য ও আইনি সেবার কনটেন্ট তৈরি না হলে প্রান্তিক মানুষ এই ব্যবস্থার বাইরেই থেকে যাবে। ৪. শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষা ও শ্রম প্রভাব মূল্যায়ন: পোশাক খাত, অনানুষ্ঠানিক শ্রম ও সেবা খাতে এআইয়ের প্রভাব নিরূপণ করতে হবে। এআই যেন নীরবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হাতিয়ার না হয়ে উৎপাদনশীলতা ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যম হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। ৫. অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি: সরকারি-বেসরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের আগে তার স্বাধীন নিরীক্ষা (Audit) করতে হবে। কোনো সিদ্ধান্তের ফলে নাগরিক বৈষম্যের শিকার হলে দায় কার হবে, তা আইনি কাঠামোর আওতায় স্পষ্ট করতে হবে। ৬. কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা: বাংলাদেশের অতীতের বড় বড় উন্নয়ন সাফল্য (যেমন—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী শিক্ষা বা টিকাদান কর্মসূচি) এসেছে তৃণমূলের সামাজিক শক্তি ও কমিউনিটি মবিলাইজেশনের মাধ্যমে। এআই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও কমিউনিটি রেডিও, স্থানীয় লাইব্রেরি ও যুব সংগঠনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

একই সাথে, আন্তর্জাতিক এআই গভর্ন্যান্সের মঞ্চে বাংলাদেশকে স্পষ্ট করে বলতে হবে যে, এআই বিভাজন দূর করার অর্থ কেবল গ্লোবাল নর্থের তৈরি অ্যাপস ব্যবহার করা নয়; বরং গ্লোবাল সাউথের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, ওপেন সোর্স টুল ও সাশ্রয়ী অবকাঠামোর অধিকার নিশ্চিত করা।

উপসংহার

যদি একটি এআই টুল গ্রামীণ একজন নারীকে তার নিজের ভাষায় স্বাস্থ্য ও আইনি পরামর্শ দেয়, তাকে সাইবার সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেয় এবং তার জীবিকার মান বাড়ায়—তবেই এআই সফল। আর এটি যদি কেবল সুবিধাবাদী শ্রেণির সুবিধাকে আরও বাড়ায় এবং বঞ্চনাকে স্বয়ংক্রিয় রূপ দেয়, তবে এই প্রযুক্তি ব্যর্থ।

এআই দারিদ্র্য কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। কিন্তু আমাদের নীতি যদি কেবল টুল-কেন্দ্রিক ও শহরকেন্দ্রিক কর্পোরেট স্বার্থে বন্দি থাকে, তবে এই দারিদ্র্য ঠেকানো যাবে না। আমাদের সামনে এখন এক সীমিত সময়ের সুযোগ। উন্মুক্ত ডেটাকে জনস্বার্থ হিসেবে দেখা এবং এআই সাক্ষরতাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই আমরা এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারি। ডিজিটাল যুগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল 'কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না'; এআই যুগ মূলত সেই প্রতিশ্রুতিরই এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।


  • এ. এইচ. এম. בזলুর রহমান: ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ; দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর।*


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।