আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেই তৈরি হবে বিদ্যুচ্চালিত বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স

আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেই তৈরি হবে বিদ্যুচ্চালিত বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স
৬ জুন, ২০২৬ ১৮:০০  

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুচ্চালিত ও বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ ৬ জুন (শনিবার) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরিসংক্রান্ত সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দুপুর ২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং চিকিৎসা খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে গ্রাম থেকে রাজধানী পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন তিন স্তরের চিকিৎসাসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কারিগরি সহযোগিতায় এবং সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সের প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক মডেল তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ৭৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও প্রোটোটাইপ নির্মাণ, পরীক্ষা, জনবল ও পরামর্শক ফি অন্তর্ভুক্ত করে তা এক কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ রোগী এবং বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে বুয়েট দুই ধরনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) অ্যাম্বুলেন্সের নকশা তৈরি করবে। এর মধ্যে প্রথম ধরনটি হবে চার চাকার ইভি অ্যাম্বুলেন্স, যা কোনো ডিজেল বা পেট্রোল ছাড়াই চলবে এবং রোগীদের গ্রাম থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসবে। দ্বিতীয় ধরনের অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা হবে উপজেলা থেকে জেলা সদর কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে রোগী স্থানান্তরের জন্য, যেখানে উন্নত অক্সিজেন ব্যবস্থার পাশাপাশি আপদকালীন ব্যাকআপ হিসেবে ছোট পরিসরে সৌরশক্তির (সোলার সিস্টেম) ব্যবস্থা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বুয়েট এই অ্যাম্বুলেন্সের নকশা ও কারিগরি দিক চূড়ান্ত করার পর তা দেশের স্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। দেশীয় অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো এই নকশা অনুযায়ী বাণিজ্যিক উৎপাদন শেষে একটি সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি সরকারের কাছে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো বিক্রি করবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালুর পর এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে আগামী বছর থেকে দেশজুড়ে মেড-ইন-বাংলাদেশ বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

//ডিবিটেক/ আইএইচ/ এমইউএম//