মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হিসাব ও লেনদেন হ্রাস
ইসলামী ব্যাংকগুলোর এমএফএসে লেনদেন কমল ২০ শতাংশ
- ইসলামী ব্যাংকের এমএফএসে আগস্টে লেনদেন ৩৩০ কোটি টাকা কমেছে
- এক মাসে এমএফএস হিসাব কমেছে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি
- প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ
প্রযুক্তি ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে। গত আগস্ট মাসে আগের মাসের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর এমএফএস খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ এবং একই সঙ্গে হিসাবের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল লেনদেনের অগ্রগতির মাঝেও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর এই মোবাইল সেবায় এই পতন খাতসংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও গ্রাহক আস্থার ঘাটতির কারণে এই খাতের পরিধি সংকুচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর এমএফএসে মোট লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা, যা আগস্টে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৩০ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, গত বছরের আগস্ট মাসের তুলনায়ও লেনদেন কমেছে ২৭১ কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। পাশাপাশি, জুলাই মাসে এসব ব্যাংকের এমএফএস হিসাবের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৭৪টি, যা আগস্টে কমে ২৬ লাখ ৬০ হাজার ০৮টিতে নেমে আসে। অর্থাৎ এক মাসে হিসাব কমেছে ২ লাখ ২০ হাজার ২৮৬টি। তবে বার্ষিক তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হিসাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে নগদ জমা ও উত্তোলন—উভয় খাতেই লেনদেন হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ে নগদ জমা বা ক্যাশ ইন হয়েছিল ৩৪৪ কোটি টাকা, যা আগস্টে কমে ২১২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। একই সময়ে নগদ উত্তোলন বা ক্যাশ আউট ৫০৫ কোটি টাকা থেকে কমে ৪০০ কোটি টাকায় নেমে আসে। এছাড়া ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পিটুপি লেনদেন ২৫ কোটি টাকা থেকে কমে ২১ কোটি টাকায় এবং বেতন বিতরণের লেনদেন ৩১৮ কোটি টাকা থেকে কমে ১৯৪ কোটি টাকায় ঠেকেছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ৪১৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি অর্থ প্রদান বা জিটুপি লেনদেন ১৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর এমএফএস ব্যবস্থার ব্যবধান অত্যন্ত স্পষ্ট।
আগস্ট মাসে সব তফসিলি ব্যাংকের এমএফএস হিসাবে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যেখানে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৯৮ দশমিক ২০ শতাংশ। লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও ব্যাপক; ওই মাসে মোট লেনদেনে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য আট শতাংশ এবং প্রচলিত ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৯৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল হিসাবের সংখ্যা বাড়লেই এমএফএসের প্রকৃত ব্যবহার বাড়ে না। এ ক্ষেত্রে সক্রিয় হিসাব বজায় রাখা, নিয়মিত লেনদেন পরিচালনা এবং প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে।
//ডিবিটেক/জেএনআর/এসএমই/এফওইডি//





