পাবলিক পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে 

প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ

প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ
৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৩০  

আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলবে এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সকল বোর্ডের মধ্যে উচ্চ শিক্ষায় নকলে রেকর্ড করা কুমিল্লাকে নকলমুক্ত করার সফরে অংশীজনদের নিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করলেন  শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। 

শিক্ষার হারে শীর্ষে থাকা এই কুমিল্লা অঞ্চলকে বিভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এখানে একটি প্রকৌশল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্ন পূরণ করতে চান এই এলাকার মানুষ।

৪ এপ্রিল, শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এমন দাবি করেন এই অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা।

কুমুল্রা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, ডিজিটালি নকল ঠেকাতে ১৯৮০ সালের আইন হালনাগাদ করা হচ্ছে। নকল রোধে মেয়েদেরকেও গোপন কক্ষে তল্লাশী করা হবে। যে কোনো পরীক্ষায় নকল করলেও আইনের অধীনে আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। নকল সনাক্তে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য বরাদ্দ ১ লক্ষ টাকা খরচ করবেন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এই সিস্টেমে কোনো ফাঁক না থাকে সে জন্য আইপিএস স্থাপন।করতে হবে। ক্লাসের সব রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।

নকল প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার 'কিপ ইট আপ' প্রতিধ্বনিত হয় জানিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা সদকায়ে জারিয়া করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার ইবাদত কারখানা। এখানে ওযু করে আসতে হবে। এখানে অসৎ থাকা যাবে না। চলতি বছরে কোনো স্কুল থেকে শূন্য শতাংশ পাশে এমপিওভূক্তি বাতিল করা যাবে না।  

বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী নকলমুক্ত অভিযানের সারথী হিসেবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীন হাসনাতের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেন্ডিং রেভ্যুলেশেনের নতুন অধ্যায়।  নকল সংগ্রহের জন্য মানুষ নিহত হয়েছেন। তা লজ্জার। ঢেকে রাথা ঐশ্বর্য্য উন্সোচন করতে হলে ছাত্র সংগঠনের নেতাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান তিনি।


সভাপতির বক্তব্যে কুমুল্লা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, নকলে শীর্ষ ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রিন্সিপালের চিঠি মন্ত্রীকে দিয়ে ধরা খেয়েছি। এখানে ছাত্ররা দয়া করে পড়ছে। এই কলেজের সব শেষ। গত সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি ধ্বস হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এখানে সব লুট হয়েছে। নকলের উৎপত্তি ছাত্ররা করে না শিক্ষকরা করে। শিক্ষকদেরও সংস্কার দরকার।

কুমিল্লা ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে অঞ্চলে কর্মমুখী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আর কুমিল্লা ১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বর আলম ভূূূঁইয়া দলিয় নেতারা স্কুল-কলেজে সভাপতি হবেন না।

জেলা প্রশাসক রেজা হাসান বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা ভুলে নিরাপদে পরীক্ষা গ্রহণে সব কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার অধীনে আনা হয়েছে। 

ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়ার কধা জানন কুমিল্লা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: শামসুল আলম। দেশে কারিগরি শিক্ষায় ১৭-১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আছে, তা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন দেশে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

অটোপাশ মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন পুলিশ সুপার  মোঃ আনিসুজ্জামান। 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেনকুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ এর সংস্থা সদস্য এম এ মান্নান, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া মোহাম্মদ নূরুর হক, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্যা টিপু প্রমুখ। 

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম