হাম-নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যু রোধে ‘বাবল সিপ্যাপ’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

হাম-নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যু রোধে ‘বাবল সিপ্যাপ’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২২:১৯  

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব ও এর আনুষঙ্গিক নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে আইসিডিডিআর,বি।  এক্ষেত্রে আইসিডিডিআর,বি উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি দেশব্যাপী সম্প্রসারণে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

৩১ মার্চ, মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। বৈঠকে আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. জুবায়ের চিশতী এবং শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক উপস্থিত ছিলেন।  এসময়  বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্ত্রীকে অবহিত করেন আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক

বৈঠকে আইসিডিডিআর,বির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়, যা শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। তাই  এই সংকট উত্তরণে আইসিডিডিআর,বি’র নিজস্ব উদ্ভাবন ‘বাবল সিপ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ প্রযুক্তি প্রচলিত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী। প্রতিটি ইউনিট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশকৃত সাধারণ অক্সিজেন পদ্ধতির চেয়েও বেশি কার্যকরভাবে শিশুর জীবন রক্ষা করতে সক্ষম। 

আইসিডিডিআর,বির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  মন্ত্রীর মতোই জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও শিশুমৃত্যু কমাতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি দেশের ৩০টিরও বেশি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে এক সভা হয়। এতে ড. জুবায়ের চিশতী ‘বাবল সিপ্যাপ’র বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার ও জীবনরক্ষাকারী দিক তুলে ধরেন।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইসিডিডিআর,বি কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেবে। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২ এপ্রিল থেকে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক মাহবুবুলের তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসাইন মো. মইনুল আহসান এ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

ডিবিটেক/এসএম/ইকে