ফলোআপঃ

আদালতে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনার প্রমাণ উপস্থাপন

আদালতে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনার প্রমাণ উপস্থাপন
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০০  
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:০২  

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।  বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ  ১১ জানুয়ারি, রবিবার এই আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। 

এই মামলার আসামি জয় পলাতক। অপর আসামি পলক গ্রেপ্তার আছেন। অভিযোগঠনের সময় তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

দুপুরে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। এসময় দুই আসামির বিরুদ্ধে ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষে শুনানি হবে। 

আদালতে প্রসিকিউউশন জানায়, আন্দোলনের সময় প্রতিমন্ত্রী পলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেছিলেন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু তদন্তে তথ্য প্রমাণ মিলেছে মূলত জয়ের নির্দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন তারা। আদালতে এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ ও পলকের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। 

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসত জয়ের কাছ থেকে। সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন পলক। ওই সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য আড়াল করার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। আর জয়ের সার্বিক নির্দেশনা বাস্তবান করেছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মো. মুনজুর আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আজ প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। তিনি এ মামলা থেকে জয়ের অব্যাহতির আবেদন উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করেন।

 এদিকে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ ৭ জনকে হত্যা মামলায় ট্রাইবুনালে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলার মোট ১৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ৮ জনের প্রত্যেকে এবং তার সঙ্গে একজন করে সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি পেলেও, সাক্ষ্য দেন তিন আসামিসহ মোট পাঁচজন। 

ডিবিটেক/এমইউএম/ইকে