বিটিআরসি: সাবেক শ্যাম সুন্দর-মুশফিকসহ বর্তমান তালেব-ফয়সাল-শারমিনের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক
ভারপ্রাপ্ত থেকে ২০১৫ সালে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে ২০১৯ সালে সিনিয়র সচিব পদোন্নতি পেয়ে ৯ জানুয়ারি ২০১৯ সালের অবসরে যান। এরপর ২০২০ সালে তিন বছরের জন্য সরকারের সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান কবি হিসেবে পরিচিত শ্যাম সুন্দর সিকদার।বিটিআরসি’র কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন হিসাব থাকা বেসিক ব্যাংকের পরিচালকও ছিলেন তিনি। তার ছেলেকে চাকুরিও দিয়েছেন ব্যংকটিতে। তবে বিটিআরসি-তে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে কোটি টাকার হাতিয়ে নেয়ার মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মোহাম্মদ নূর আলম সিদ্দিকী। তদন্তের অংশ হিসেবে ১২ অক্টোবরের মধ্যে সাবেক এই চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে কমিশনকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে ছিলেন এই কর্মকর্তা। চিঠিতে ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বিটিআরসি’র রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ও মনিটরিং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিরীক্ষা নথির সত্যায়িত কপি, নিয়োগপ্রাপ্ত ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শকের নিয়োগ সংক্রান্ত নথি, কমিশনের অর্থ ও রাজস্ব বিভাগের সাবেক কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী, পরিচালক এম. এ. তালেব হোসেন, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ফয়সাল রহমান ও শারমিন সুলতানার নিয়োগ ও পদন্নতি সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছে।
বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও দুদক থেকে পাঠানো চিঠিটি ডিজিবাংলাটেকডট নিউজের হাতে আছে। সেই চিঠির সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানাগেছে, এরই মধ্যে চাহিত নথির আংশিক রেকর্ডসহ পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে, সরবরাহ করা নথির মধ্যে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিটিআরসি’র তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান শেষে কমিশন বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবেদনও রয়েছে। রয়েছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেক্সিমকো নামে বিটিআরসি’র লাইসেন্স তালিকায় কোনো ইন্ট্যারন্যাশনাল গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান না থাকার পরও যেভাবে আইজিডব্লিউ অপারেটর ফোরামের বাজার উন্নয়ন তহবিলে (এমডিএফ) জমা পড়া ৬৩১ কোটি ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৭৬ টাকার মধ্যে খরচ হওয়া ৬২৫ কোটি ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ টাকাই বেক্সিমকো কম্পিউটার্স লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে সেই বিষয়ক ব্যাংক স্টেটমেন্ট। বিষয়টি নিয়ে গুলশান থানায় বিটিআরসি’র করা মামলাও হয়েছে।
আইওএফ এর এমডিএফ ফান্ড এর অনিয়মে সাবেক কমিশনার মুশফিক মান্নান এবং আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারীদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার এবং ২০০৯ সালে বিধি উপেক্ষা করে বিটিআরসিতে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকুরির মূলধারায় আসা ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে তার সময়ে ক্রমান্বয়ে বিধি বহির্ভূত সুবিধা দিয়ে চাকুরিতে বহাল রাখাসহ বিপুল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার বিটিআরসিতে যোগদান পরবর্তীতে বিটিআরসির সার্ভিস রুলস এর ব্যতয় ঘটিয়ে ফয়সালকে স্টাফ অফিসার নিয়োগ করেন। যা পরবর্তীতে তার পরামর্শে কমিশনারদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করে কমিশনের কাজের পরিবেশ নষ্ট করে।
জানাগেছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সামিট কমিউনিকেশন্স লি. এর এনটিটিএন লাইসেন্সের শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি ১০ কোটি বিধি বহির্ভূতভাবে মওকুফ করা, ২০১৬-১৭ ও ২০১৯-২০ সালে কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ঘটনা ও পদায়নে অভিযুক্তদের মধ্যে প্রশাসন বিভাগের পরিচালক এম এ তালেব এর সংশ্লিষ্টতা নিয়েও ব্যাপক তদন্ত করছে দুদক। অভিযুক্ত এম এ তালেবের পদন্নতিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে এরই মধ্যে প্রশাসন শাখা থেকে তাকে সরিয়েও দেয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ বিষয়ে জনাতে বিটিআরসি’র সাবেক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারকে ফোন দেয়া হলে তিনি তা ডিক্লাইন করেন। হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনে খুদে বার্তা দেয়া হলেও জবাব দেননি।



