প্রতিমা ভাঙচুরের ছবি ২০২১ সালের
এডিটেড ফটোকার্ডে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত
এডিটেড ফটোকার্ডে জামায়াতে ইসলামীর নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে বাংলাদেশে চলমান গুজব ও ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্বে নিয়োজিত লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিকাল অ্যান্ড কোয়ালিটিভেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) দ্বারা পরিচালিত উদ্যোগ ফ্যাক্টওয়াচ।
অপরদিকে আওয়ামী শাসনামলে ২০২১ সালে প্রতিমা ভাঙচুরের পুরোনো ছবি সাম্প্রতিক সময়ের বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, সারাদেশে প্রায় ৩শ’ পূজা মন্ডপে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রতিমা তৈরি করা হবে-এমন বার্তাযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’-এর একটি ফটোকার্ড এই খবরে ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি একটি এডিট করা ফটোকার্ড। আজকের পত্রিকার ফেসবুক পেইজ বা ওয়েবসাইটে এমন কোন সংবাদ প্রকাশিত হয়নি।
আর বাংলাফ্যাক্ট জানায়, প্রতিমা ভাঙচুরের এই ছবিগুলো সাম্প্রতিক নয়, পুরোনো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে, জয়পুরহাটে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাফ্যাক্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, আলোচিত তিনটি ছবি সাম্প্রতিক নয়; অন্তত ২০২১ সাল থেকেই এগুলো ইন্টারনেটে রয়েছে। এর মধ্যে দুটো ছবি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জয়পুরহাটের শুকতাহার এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে জানা যায় যে, জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার শুকতাহার মধ্যপাড়া ও পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জয়পুরহাটে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম। তিনি বাংলাফ্যাক্টকে জানান, শুকতাহার এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুরের কোনো নতুন ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়াও দৈনিক পত্রিকার জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিরা বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, ‘ওই এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
আলোচিত দাবিটি মিথ্যা এবং প্রচারিত ছবিগুলো পুরোনো বলে শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।



