সার্বভৌম এআই ও সাইবার নিরাপত্তায় জোর

এক নাগরিক, এক পরিচয়ে ডিজিটাল সেবা

  • এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করের তথ্য একীভূত করার পরিকল্পনা।
  • সাইবার নিরাপত্তা সংস্থায় ১২০ জন নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।
  • আন্তর্জাতিক সনদ ছাড়া প্রশিক্ষণ না দেওয়ার ঘোষণা আইসিটি সচিবের

এক নাগরিক, এক পরিচয়ে ডিজিটাল সেবা
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:০৪  

নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেজ একীভূত করে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ ব্যবস্থা চালু, নিজস্ব সার্বভৌম বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে নিরাপদ তথ্য বিনিময়ের কাঠামো, উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য অভিন্ন ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও একাডেমিক পেশাজীবীদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা। সভায় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের সভাপতি ও সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির, মহাসচিব ও যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফ আহমাদ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম জ্যান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার রাহিতুল ইসলামসহ সংগঠনটির সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় আইসিটি সচিব জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও কর ফাইলসহ নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেজ সমন্বিতভাবে এক জায়গায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহার ও জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বস্ত আন্তঃকার্যক্ষমতা কাঠামো (ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরির কাজও চলছে।

দেশের সাইবার পরিসর সুরক্ষিত রাখতে সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, সংস্থাটিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে, যার বড় একটি অংশে কারিগরি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দেশের তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। এ লক্ষ্যে নিজস্ব এআই মডেল এবং যৌথভাবে ব্যবহারের উপযোগী জিপিইউ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সভায় আইসিটি বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সিটিজে। সংগঠনটির সভাপতি হাসান জাকির বলেন, অতীতের মতো দক্ষ জনবল তৈরির নামে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে অর্থ তছরুপের সুযোগ দেওয়া যাবে না। অর্থের অপচয় হয়—এমন প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ থেকেও বিরত থাকার দাবি জানান তিনি।

সিটিজের মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, প্রযুক্তি খাতে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উদ্ভাবনী উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিবেদন তৈরির প্রয়োজনে সাংবাদিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা; এআই, সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্যপ্রযুক্তির নতুন খাত ও কারিগরি বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন; এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সিটিজের পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলোকে প্রযুক্তি খাতের স্বচ্ছতা এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের জন্য সময়োপযোগী উল্লেখ করে আইসিটি সচিব ড. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, আইসিটি বিভাগ আন্তর্জাতিক সনদ ছাড়া অন্য কোনো প্রশিক্ষণ আর দেবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নামকাওয়াস্তে আর কোনো প্রশিক্ষণ হবে না।

সচিব আরও বলেন, স্টার্টআপসহ উদ্ভাবনী প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সিটিজের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

//ডিবিটেক/এসএমই/এমএসআই/এমভিএনও//