মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে এআই-নির্ভর ডিজিটাল ভবিষ্যতের রোডম্যাপ দেখলো বাংলালিংক

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে এআই-নির্ভর ডিজিটাল ভবিষ্যতের রোডম্যাপ দেখলো বাংলালিংক
৪ মার্চ, ২০২৬ ০০:৪৫  

আন্তর্জাতিক টেলিকম খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন 'মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০২৬'-এ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করল ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। ২০০-এর বেশি দেশের এক লাখেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর সামনে বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল খাতের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর রূপান্তরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছে।

নাসডাক-তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক অপারেটর ভিওন (VEON)-এর মালিকানাধীন বাংলালিংক বর্তমানে ৫৩ কোটি মানুষের এক বিশাল বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমডব্লিউসি-তে ভিওন গ্রুপের সিইও কান তেরজিওগ্লু তার মূল প্রবন্ধে জানান, শুধু সংযোগ দেওয়াই এখন টেলিকম অপারেটরদের কাজ নয়। মানুষের জীবনের ২৪ ঘণ্টার ১৪৪০ মিনিটের প্রতিটি মুহূর্তেই ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক থাকাই তাদের লক্ষ্য, যাকে তারা বলছেন ডিও১৪৪০ কৌশল। তিনি আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিনোদনকে একীভূত করার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এআই ও উদ্ভাবন বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, "নেটওয়ার্ক ও সেবায় এআই-এর সংযোজন প্রচলিত সংযোগসেবাকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অপারেটররা ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিস্তারে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এআই, সংযোগ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অংশীদারিত্ব ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণ করতে এবং একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ উপযোগী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারব।" বর্তমানে বাংলালিংক তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ও কাস্টমার সাপোর্টে এআই এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করছে, যা সেবার মান ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলালিংক ও ভিওন-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাংক ও আইএফসি (IFC)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। উল্লেখ্য, গত দুই দশকে বাংলাদেশে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে বাংলালিংক এবং জাতীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে তারা। বর্তমানে সারা দেশে ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে বাংলালিংক।

ডিবিটেক/বকুল রায়/ইকে