ব্যাংক ঘেরাওয়ের পর সমাধান

ফলোআপঃ চুয়েটে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ

  • কর্মচারীদের ব্যাংক ঘেরাওয়ের দেড় ঘণ্টা পর বেতন-ভাতা দেওয়া হয়
  • নতুন উপাচার্যের নির্দেশে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে বেতন আটকে ছিল
  • সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সবার বেতন পরিশোধ করা হয় 

ফলোআপঃ চুয়েটে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫০  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। কর্মচারীদের সোনালী ব্যাংক শাখা ঘেরাও কর্মসূচি শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বুধবার, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশনার পর বেতন-ভাতা আটকে থাকার ঘটনায় কর্মচারীদের কর্মসূচির মধ্যেই এ অর্থ পরিশোধ করা হয়।

বেতন-ভাতা আটকে দেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১১টায় চুয়েটের সোনালী ব্যাংক শাখা ঘেরাও করে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। কর্মসূচি শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলে কর্মচারীরা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যান।

আন্দোলনের কারণে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যেতে না পারলেও ব্যাংকে ই-মেইল পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

এর পর ৫ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক উপাচার্যকে একটি ফিরতি ই-মেইল পাঠান। এতে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের বিল ব্যাংকে জমা হয়েছে।

এর জবাবে উপাচার্য আবার ই-মেইল করে জানান, উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানো ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’।

ই-মেইলে উপাচার্য উল্লেখ করেন, চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। এই অননুমোদিত লেনদেনের ফলে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হলে এর জন্য উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়ভার বহন করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুমোদনবিহীন এসব নথি প্রস্তুত ও প্রেরণের মাধ্যমে যে লঙ্ঘন ঘটেছে, তার একক ও সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার ওপর বর্তাবে বলেও ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এর জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষও দায়ী থাকবে বলে জানান উপাচার্য। এরপরই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে যায়।

চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে কম্পট্রোলার ও সহ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরেই বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার নতুন উপাচার্য বেতন আটকে দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে আমরা ব্যাংক ঘেরাও করে অবস্থান নিই। এর মধ্যেই আমাদের বেতনের মেসেজ (খুদে বার্তা) এসেছে। আমাদের দাবির মুখে চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারেই আমাদের বেতন দেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, কর্মচারীদের ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। এ কারণে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সবার বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে।

চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া এই জটিলতার আপাতত অবসান হয়েছে। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

//ডিবিটেক/সিআইএইচ/এসইও/ডিপিসি//