মহাকাশ অনুসন্ধানের ৬৯ বছর পূর্তি

রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্পুটনিকফেস্ট ২০২৬’

  • স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের ৬৯ বছর পূর্তিতে স্পুটনিকফেস্ট
  • আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ ও টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ
  • রাশিয়ায় মহাকাশ প্রকৌশলে সরকারি বৃত্তির সুযোগ

রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্পুটনিকফেস্ট ২০২৬’
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৯  

মানবজাতির মহাকাশ জয়ের সূচনা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে উদযাপিত হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’ উৎক্ষেপণের ৬৯ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ রাশিয়ান হাউসে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত হয় বিশেষ মহাকাশ উৎসব ‘স্পুটনিকফেস্ট ২০২৬’। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল মহাকাশ অনুসন্ধানের আধুনিক যুগ।

৪ অক্টোবর, রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই বিজ্ঞান সম্মেলনে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পাশাপাশি রাজধানীর বাইরের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। শিক্ষক, গবেষক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি তরুণ প্রজন্মের মাঝে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ প্রকৌশল নিয়ে বাস্তবিক জ্ঞান ও আগ্রহ বৃদ্ধির উন্মুক্ত সুযোগ তৈরি করে।

দিনব্যাপী আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত ছিল স্পুটনিক-১ এবং আধুনিক মহাকাশ অনুসন্ধান সম্পর্কিত দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা, রাশিয়ার আধুনিক মহাকাশ মিশন বিষয়ক কারিগরি সেমিনার, সনদপত্র বিতরণ এবং দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের ‘স্কাই অবজারভেশন ক্যাম্প’।

অনুষ্ঠানের সেমিনারে বক্তব্য রাখেন দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞবৃন্দ। এতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রেহেনা নাসরিন, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন এবং ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনয় মূল প্রবন্ধ ও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন। বক্তারা পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল সূত্রগুলো তরুণদের সামনে তুলে ধরেন এবং মহাকাশ গবেষণায় ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করেন।

এ সময় ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনয় অংশগ্রহণকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য রুশ সরকারের শতভাগ অর্থায়িত বৃত্তির বিস্তারিত সুযোগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মহাকাশ প্রকৌশল (অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং), পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং অ্যাডভান্সড ডিপ-টেক বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

//ডিবিটেক/বিএনএন/এমএসআই/এসএমপি//