ঢাকায় ক্যান্সারমুক্ত বিশ্বের বিজ বুনলেন স্যার ওয়াল্টার বোডমারের
খুব দ্রুতই ক্যান্সার চিকিৎসাই অনন্য অবদান রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দফায় বাংলাদেশ সফরে আসা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. স্যার ওয়াল্টার বোডমারের উপস্থিতিতে যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী লেকচার থিয়েটারে রপিত হলো ভবিষ্যতের ক্যান্সারমুক্ত বিশ্বের বীজ। সেখানে “হিউম্যান জিনোম : ক্যান্সার এবং ইমিউনোথেরাপি” বিষয় বিশেষ বক্তৃতায় ‘বৈশ্বিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মঞ্চে বাংলাদেশকে এখন ভোক্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ বলে অভিহিত করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইটহুড উপাধিপ্রাপ্ত নাইট উপাধীপ্রাপ্ত এই কিংবদন্তি ক্যান্সার গবেষক।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনকোলজি বিভাগের প্রধান স্যার ওয়াল্টার বোডমার বললেন, ক্যান্সার নির্ণয়ের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে কোষের জেনেটিক দুর্বলতার মধ্যে। এই দুর্বলতা তালাশে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করেন তিনি।
ঢাবি’র ফার্মেসী অনুষদের আয়োজনে বিশেষ এই বক্তৃতায় মানবদেহের জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট ব্যবহার করে ক্যান্সারকে নির্মূল করার বৈপ্লবিক পথরেখা তুলে ধরেন বোডমার। তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এমআরএনএ (mRNA) প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট থেরাপির ব্যবহার। নিজের গবেষণা তুলে ধরে তিনি দেখালেন কিভাবে সিএসই এর মতো এপিসি এবং টি৫৩সহ বিভিন্ন জিনের মিউটেশনে কাজ করে। এই জেনেটিক তথ্যকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইমিউনি থেরাপি। এই পদ্ধতিতে এমআরএনএকোডকে বিশেষ লিপিড ন্যানো পার্টিকেল এএনপি’র মাধ্যমে সরাসরি টিউমারে প্রবেশ করানো হয়। টিউমার কোষ তথন এই কোড অনুসরণ করে এমন বাই স্পেসিফিক এন্টিবডি তৈরি করে যা একদিকে ক্যান্সারকোষকে চিহ্নিত করে। অন্যদিকে দেহের টি কোষকে ডেকে এনে স্থায়ীভাবে আক্রমণ শুরু করে। এটি এক নিখুঁত লক্ষ্যভেদী চিকিৎসা। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে কেমোথেরাপির ধ্বংসাত্মক প্রভাব এবং প্রচলিত ইমিউনিথেরাপির সাইটোকাইন স্ট্রম এর ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনে।
ক্যান্সার চিকিৎসা গবেষণা বাস্তবায়নে শিল্পখাতের পূর্ণ সহায়তা প্রয়োজন বলে সেমিনারে অভিমত ব্যক্ত করেন এমিরেটাস অধ্যাপক ডক্টর এ কে আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু ক্যান্সারে চিকিৎসার জন্যই নয়; আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাত এবং অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রের জন্য জেনম প্রৌকশলী বা বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রে গভীর মনযোগী হওয়া দরকার।
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজি’র চেয়ারম্যান ডক্টর সৈয়দ আরাম হোসেন, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ডক্টর গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক এবং বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালের কনসালটেন্ট অধ্যাপক এসএস খাদেজা নাহার।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষে ফার্মেসি অনুষদের ডিন মোহাম্মদ সেলিম রেজা ও অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ ইলিয়াস আল মামুন ছাড়াও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান বিকোন ফার্মা, এসকেএফ, হেলথকেয়ার ফার্মা, ইনসেপ্টা, অপসোনিন, পোপুলার, রেডিয়েন্ট এবং সিনোভিয়া ফার্মার বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর, রবিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন অধ্যাপক ড. স্যার ওয়াল্টার বোডমার।
সাক্ষাৎকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের আধুনিকায়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং এর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে অতিথিকে অবহিত করেন।







